রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের স্থান চিহ্নিত করার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের পাশে একটি ঝোপের মধ্যে পাওয়া যায় ওই শিক্ষার্থীর বই, ঘড়ি এবং ইনহেলার।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতোলের ফরেসনসিক চিকিৎসক ও বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন, ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।
সোমবার দুপুরে র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে পাশের একটি ঝোপের মধ্য থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
র্যাবের এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ঝোপের মধ্য থেকে ওই ছাত্রীর বই, চাবির রিং, ইনহেলার, ঘড়িসহ বেশ কিছু আলামত আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটিই ঘটনাস্থল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আসলে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ধর্ষণের স্থান আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে পাশের একটি ঝোপের মধ্য তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত একজন। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।’
ধর্ষণকারীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কুর্মিটোলায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলের পাশে রাস্তার ফুটপাতে মানববন্ধন করেন তারা। পরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।
এ সময় তারা ধর্ষণের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। শিক্ষার্থীরা প্রথমে সড়কের দুই পাশেই অবস্থান নিলে সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বনানী থেকে বিমানবন্দরগামী সড়কের একপাশে অবস্থান নিলে একপাশে যান-চলাচল বন্ধ থাকে।
একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে তারা সড়ক থেকে সরে যায়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় গঠিত সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর গলার দুই পাশে নখের আঁচড় দেখা গেছে। গলা চেপে ধরার কারণে কথা বলতে একটু তার কষ্ট হচ্ছে। নাকের উপরেও নখের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ্ত কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অভিযুক্ত একজন। আমরা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্তের চেষ্টা করছি। অপরাধীকে খুঁজে বের করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে পাশের ওই স্থানটি নির্জন হওয়ায় এ ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছে অপরাধী।
‘‘ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীর বাবা সোমবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে অপরাধীকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য আমরা প্রযুক্তি ও ম্যানুয়ালি কাজ করছি। সিআইডি এখনও আলামত সংগ্রহ করছে।’’
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
ধর্ষণের এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১০টার দিকে নিজেকে একটি নির্জন জায়গায় আবিষ্কার করেন ওই ছাত্রী। রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা।







