ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেন বন্ধ করা হলো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ সেই বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রবাসী চিকিৎসক মিল্টন হাসনাত। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ছাত্রলীগের নওশাদ ও রাহাত গ্রুপের নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনীতিতে গ্রুপিং এক অনিবার্য বাস্তবতা। আমরাও গ্রুপিং করেছি। তাই বলে বৃহত্তর দলীয় স্বার্থে কখনো নিজেদের গ্রুপের স্বার্থকে প্রাধান্য দেইনি। নিজেদের মধ্যে মারামারিও করিনি। তবে রাহাত-নওশাদরা কেন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়? তারা কিসের রাজনীতি করে? কোন আদর্শের রাজনীতি করে? কার রাজনীতি করে? তাদের কর্মকাণ্ডের কতটুকু জুড়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকে? শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা কতটুকু? নিজেদের স্বার্থ বিস্তারের জন্য মারামারি করে বিভিন্ন মিডিয়ায় শিরোনাম হয়ে তারা কার মুখ উজ্জ্বল করল? এদের পেছনের শক্তিই বা কারা? মিডিয়া বলছে, কুমিল্লা বিএমএর কোনো কোনো নেতা তাদের পৃষ্ঠপোষক। সত্য জানি না, তবে তা হলেও হতে পারে।
বঙ্গবন্ধু নেই, শেখ হাসিনা গৌণ। বড় হয়ে উঠছে এইসব অমুক ভাই, তমুক ভাইদের রাজনীতি। আর তার মাসুল দিচ্ছে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। মেডিকেল কলেজ বন্ধ থাকলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা। কেন হবে? রাহাত-নওশাদদের মতো কুলাঙ্গারদের জন্য কেন আমরা এই ক্ষতি মেনে নেবো?
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ একাডেমিক কাউন্সিলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অবিলম্বে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ খুলে দিন। আর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করুন। রাহাত-নওশাদসহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা যদি প্রকৃতই দোষী হয়, তাহলে তাদের বিরূদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। আপনাদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। মেরুদণ্ড সোজা করে দায়িত্ব পালন করুন। না পারলে পদত্যাগ করে চলে যান।
সবশেষে সাবেক এই ছাত্রনেতা লিখেছেন, আর মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বলছি, শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের যে ধারা সূচিত হয়েছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে চলো, আর না পারলে পত্রপাঠ বিদেয় হও। কারো ব্যক্তিগত অন্যায়-অপরাধের দায় দল নেবে না।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু শেখ হাসিনা।







