প্রথমে ব্যাট হাতে এভিন লুইসের ঝড়। পরে বল হাতে আফ্রিদি-ওয়াহাব রিয়াজের তাণ্ডব। এর মধ্যে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়াহাব রিয়াজ তুলে নেন চলতি আসরের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। ডাবল চাপে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কাছে চ্যাপ্টা খুলনা টাইটানস। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে কুমিল্লা ম্যাচ জিতে নেয় ৮০ রানের বড় ব্যবধানে।
লক্ষ্যটা বিশাল। সেমতো শুরুটাও খারাপ হয়নি। প্রথম পাঁচ ওভারে স্কোরবোর্ডের হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু পরে আর সেভাবে ব্যাট চালাতে না পারায় ম্যাচটাও জেতা হয়নি খুলনা টাইটানসের। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের দেয়া রানের পাহাড় টপকাতে না পেরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল হেরেছে বড় ব্যবধানেই। আর জিতে শীর্ষে চারের জায়গাটা আরও শক্ত করেছে কুমিল্লা।
প্রথম ব্যাট করে এভিন লুইসের সেঞ্চুরিতে ভর দিয়ে ২৩৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে কুমিল্লা। জবাবে সাত বল বাকি থাকে ১৫৭ রানেই শেষ হয় খুলনার ইনিংস।
প্রথম পাঁচ ওভারে স্কোরবোর্ড ঠিক ৫০’র ঘর ধরে। ষষ্ঠ ওভারের শুরুতেই উইকেট হারায় খুলনা। ৫৫ রানের মাথায় ২৭ রান করে ফেরেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে না পারা সিদ্দিকী ২৪ বল খেলে মারেন পাঁচটি বাউন্ডারি। চারটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা।
মেহেদী হাসানের সফল্যের পথ ধরে কুমিল্লাকে দ্রুতই দ্বিতীয় সফলতা এনে দেন শহিদ আফ্রিদি। মেহেদীর হাতেই ক্যাচ বানিয়ে ১৩ রান করা ডেভিড মালানকে ফেরান পাকিস্তানি অভিজ্ঞ স্পিনার।
ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৭ বলে ১১ রান করে আফ্রিদির বলে সরাসরি বোল্ড হন। পরে প্রায় একা হাতে দলকে টানা ব্রেন্ডন টেলরকেও ফেরান আফ্রিদি। ৩৩ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৫০ রান করা জিম্বাবুয়ে তারকার ক্যাচ নিজেই নেন আফ্রিদি।
টেলরের পরপরই সাজঘরে ফেরেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। থিসারা পেরেরার বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার করেন ২২ রান।
নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি নাজমুল হাসান শান্তও। ১৪ রান করে সাইফউদ্দিনের শিকার হয়েছেন তিনি। আফ্রিদির সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন আরিফুল হক (২)।
খুলনার শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে পরপর ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক তুলে নেন ওয়াহাব রিয়াজ। ডেভিড ওয়াইজ, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাদ্দামকে আউট করেন পাকিস্তানি পেসার। ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিসের পর দ্বিতীয় বোলার এই বিপিএলে হ্যাটট্রিক করলেন। পরের ব্যাটসম্যানরা রান না পাওয়ায় ১৫৭তেই থামে খুলনার দৌড়।
ওয়াহাব রিয়াজের হ্যাটট্রিকসহ তিন উইকেটের সঙ্গে কুমিল্লার হয়ে আফ্রিদিও তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান ও পেরেরা একটি করে উইকেট নেন।







