সাব্বির রহমান অনেকটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সতীর্থদের সেরকম সমর্থন পাননি। তাতে খুলনা টাইগার্সের কাছে ৩৪ রানে হেরে সেরা চারের আশা ধূসর হয়ে গেল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের।
বুধবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ২ উইকেটে ১৭৯ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে খুলনা টাইগার্স। জবাব দিতে নেমে ১০ বল হাতে রেখে ১৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।
হারে কুমিল্লার কোয়ালিফায়ারের আশা ধূসরই হয়ে গেল। কাগজে-কলমের হিসাব যদিও সবসময়ই থাকে। সেজন্য গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততে তো হবেই তাদের, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের জয়-পরাজয় ও রানরেটের দিকেও। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচে তারা।
বিপরীতে এই জয়ে সেরা চারের পথ আরও উজ্জ্বল করল খুলনা। ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের চারে তারা। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ দুম্যাচের একটিতে জিতলেই কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত হয়ে যাবে। দুটিতেই হারলেও সুযোগ থাকবে, সেক্ষেত্রে অন্যদের জয়-পরাজয় ও রানরেটের দিকে নজর রাখতে হবে। হাতে দুটি ম্যাচ থাকায় টাইগার্সদের বিপদের ঝুঁকি কিছুটা কম!
শুরুতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত পায় খুলনা। ৫৫ বলে ৭১ রান আনেন দুজনে। শান্তর বিদায়ে ভাঙে জুটি। ৪ চার ও এক ছক্কায় ২৯ বলে ৩৮ করে যান এ ওপেনার।
মিরাজ আরও কিছুক্ষণ ছিলেন। রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৯ বলে সমান ৩৯ রান করে ওয়াইসের বলে বোল্ড হন।
আসল তাণ্ডবটা এরপরই চালায় খুলনা। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে রাইলি রুশো চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন। দুজনে অবিচ্ছিন্ন ৮৫ রানের জুটি গড়েন ৪৬ বলে। মূলত হাতখুলে খেলেছেন রুশোই, ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৬ বলে ৭১ রানের টর্নেডো আসে তার ব্যাটে।
মুশফিক অপরাজিত থাকেন ২৪ রানে। ২ চারে ১৭ বলের ইনিংসে তার কাজ ছিল আদতে রুশোকে যতবেশি সম্ভব স্ট্রাইক দেয়া!
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে উদ্বোধনীতে আসা এক সাব্বির ছাড়া জবাব দিতে পারেননি কুমিল্লার কেউই। সৌম্য সরকার ২ চার ও এক ছয়ে ১৭ বলে ২২, ইয়াসির আলি এক চার ও ২ ছক্কায় ১৫ বলে ২৭ ছাড়া বলার মতো রান কেবল সাব্বিরের ফিফটি।
সাব্বির ৩৯ বলে ৬২ করে ফেরার আগে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন ঠিকই, সতীর্থদের সমর্থনের অভাবে সেটি হারের খাতাতে থাকল। ৭ চার ও ২ ছয়ে সাজানো ইনিংস তার।
খুলনার সেরা বোলার রবি ফ্রেইলিংক। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন এ পেসার, আছে একটি মেডেনও। বাকিদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ও শহিদুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি উইকেট গেছে শফিউল ইসলামের ঝুলিতে।








