অ্যাশেজ হাতছাড়া হওয়ার পরই ব্রিটিশ মিডিয়া দাবি তুলেছিল কুক-অ্যান্ডারসন-ব্রডদের বাদ দেয়া হোক। কিন্তু অধিনায়ক জো রুট তখন তিন সিনিয়রের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আস্থা রেখেছিলেন। ভুল যে করেননি, তার প্রমাণ হয়ে গেল মেলবোর্ন টেস্টেই। ডাবল সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক কুক। আর ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন ব্রডও।
রানখরায় থাকা অ্যালিস্টার কুক চলতি অ্যাশেজের প্রথম তিনটি ম্যাচের ছয় ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৮৩ রান। সর্বোচ্চ ৩৭। চতুর্থ টেস্টে হাসলো তার ব্যাট। ডাবল সেঞ্চুরি করে ছাড়িয়ে গেছেন তিন কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে, শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ব্রায়ান লারাকে।
অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহকের তালিকায় কুকের নাম ছিল ৯-এ। ২৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে উঠে গেলেন ষষ্ঠ স্থানে। পেছনে ফেলেছেন জয়াবর্ধনে, চন্দরপল ও লারাকে।
দ্বিতীয় দিনের খেলায় শতক পূর্ণ করে জয়াবর্ধনেকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন কুক। তৃতীয় দিনে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দুই ক্যারিবীয় কিংবদন্তি চন্দরপল ও লারাকেও পেছনে ফেলেছেন। ইংল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অপরাজিত আছেন ২৪৪ রানে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ৩২৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড সংগ্রহ করেছে ৪৯১ রান। এগিয়ে গেছে ১৬৪ রানে।
লারা-চন্দরপলদের পেছনে ফেলার পর কুকের সামনে এখন আরেকটি দারুণ মাইলফলকের হাতছানি। আর মাত্র ৪৪ রান করতে পারলেই ইংল্যান্ডের প্রথম ও টেস্ট ইতিহাসের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে কুক স্পর্শ করতে পারবেন ১২ হাজার রানের মাইলফলক।
মেলবোর্নে ঘটেছে একটি কাকতালীয় ঘটনাও। ৩১ বছর আগে এই মাঠে বক্সিং ডে টেস্টে খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জিওফ মার্শ এবং ইংল্যান্ডের ক্রিস ব্রড। সেই ম্যাচে তাদের সন্তানও মুখোমুখি হয়েছেন। জিওফের দুই ছেলে শন ও মিচেল মার্শের বিপরীতে আছেন ক্রিসের ছেলে স্টুয়ার্ট ব্রড। জিওফ মার্শ ও ক্রিস ব্রডের খেলা টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচেও জয়ের আভাস পাচ্ছে ইংলিশরা। বাকি ফলাফল দেখার জন্য সময়ের অপেক্ষা।








