গত শুক্রবার উত্তরায় একদল কিশোর স্কুল শিক্ষার্থী আরেক কিশোর আদনানকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। শুক্রবার ছুটির দিন সন্ধ্যায় আদনানকে ১০/১৫ জন তরুণ ধাওয়া করে ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। হাসপাতালে নেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মাথায় তার মৃত্যু হয়। ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনানের বাবা মো. কবির হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন, আসামিদের সবার বয়স ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। পাড়াভিত্তিক ক্লাব বা বিভিন্ন গ্রুপের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, উত্তরায় বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি হয়েছে। গ্রুপগুলো এলাকার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে, যার সঙ্গে বড়ভাইয়েরাও জড়িত। পুলিশ বলেছে, নিহত আদনান কোন ধরণের অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তারা ঘটনা খতিয়ে দেখছে। কথা হলো, আর কতদিন পুলিশ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর খতিয়ে দেখবে? গ্রুপগুলো যখন গজিয়ে উঠছিল তখন পুলিশ কী করেছে? উত্তরার এই গ্রুপগুলোর মধ্যে আছে ডিসকো গ্রুপ, নাইন স্টার গ্রুপ, তালাচাবি গ্রুপ ইত্যাদি। এলাকার খেলাধুলা থেকে রাজনীতি– সবকিছু গ্রুপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। আদনানের বাবার অভিযোগ, তার ছেলেকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা সবাই নাইন স্টার গ্রুপের সদস্য। এলাকায় অধিপত্য বিস্তার ছাড়াও মাদক ব্যবসাসহ সব ধরণের অপকর্মে এই গ্রুপগলো জড়িত। গ্রুপ দ্বন্দ্বে কিশোর আদনানকে প্রাণ দিতে হলো। গ্রুপগুলোর ফেসবুক পেজও আছে। এটি দৃশ্যমান একটি তৎপরতা। পুলিশ প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তাহলে ভূমিকা কী? তারা কি এই গ্রুপগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত নয়? এদেরকে নজরদারী করার কেউ নাই? গত কয়েক বছর কিশোর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা একের পর এক ঘটে যাচ্ছে। প্রায়শই দেখা গেছে, নিহত কিশোররা নিরপরাধ এবং প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসার শিকার। এবং আরো দুঃখজনক এই স্বার্থ বা প্রতিহিংসা অত্যন্ত অকিঞ্চিতকর বা তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে। গত কয়েকবছর নিতান্ত তুচ্ছ ঘটনায় কিশোর হত্যা বেড়ে গেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই নৃশংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় সমাজের অভিভাবকেরা এখন এক অজানা শংকায় আছেন। তারা তাদের চোখের সামনে থাকা ছেলেমেয়েদেরও আর নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। এটা রাষ্ট্রের জন্য একটি বাজে উদাহরণ। আমরা এই ধরণের সকল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কিশোর আদনান হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। নতুবা আমরা ধারাবাহিক নৃশংসতা থেকে মুক্তি পাবো না। আর এই অব্যাহত নৃশংসতার কারণে সমাজে বড় ধরণের অরাজকতার সৃষ্টি হবে, রাষ্ট্রও যার কবল থেকে মুক্তি পাবে না।







