রাজধানীর আফতাবনগরে কিশোর জিসান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. শাহীনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার চর ডাকাতিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন: বুধবার সকালে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ থেকে জিসান হত্যার আরেক আসামি শরীফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার চর ডাকাতিয়া গ্রাম থেকে মূল পরিকল্পনাকারী শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘তাদের কাছ থেকে জিসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে’, বলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান।
জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়: অপহরণ এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শাহিন এবং অপর হত্যাকারী শরিফুল গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার সময় মাফলার পেঁচিয়ে নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে জিসানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে আফতাব নগর লেকে ডুবিয়ে দেয়। জিসানকে অপহরণের পর তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন এবং শরীফুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
এর আগে গত শুক্রবার দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে জিসান বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত শনিবার জিসানের বাবা মোফাজ্জল হোসেন খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করেন।

জিসান নিখোঁজ হওয়ার দিনই তার মোবাইল থেকে বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে ১৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়। বিনিময়ে জিসানকে ফেরত দেয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে ওই নাম্বারটিতে ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়।
১৩ বছর বয়সী ওই কিশোর পূর্ব গোড়ানের এক রিকশা গ্যারেজ মালিকের স্কুল পড়ুয়া ছেলে। জিসান স্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়। তার বাবার রিকশা গ্যারেজের আয় দিয়ে তাদের সংসার চলত।
সোমবার দুপুরে আফতাব নগরের লোহার ব্রিজের পাশের ঝিলে এক কিশোরের লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয় লোকজন জানায়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। লাশের শরীরে ইট দিয়ে বাঁধা ছিল।
পাশের থানা এলাকায় অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধারের কথা শুনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলের মর্গে যায় খিলগাঁও থানা পুলিশের সদস্যরা। পরে জিসানের বাবা মোফাজ্জল হোসেন ঢামেকে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করে।







