অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, ব্যক্তিখাত বিনিয়োগে ইতিবাচক থাকলেও ব্যাংকিং খাত কিছুটা সমস্যায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ খাতে একদিকে কু-ঋণের পরিমাণ বাড়ছে অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ নেতিবাচক ধারায় থাকাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার রাজধানীর মহাখালির ব্র্যাক ইন সেন্টারে জাতীয় বাজেট ২০১৭-২০১৮ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। সংবাদ সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধে সিপিডির পক্ষে এসব কথা বলেন সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান।
আগামী বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়, ৩-৪ বছরের মধ্যে এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ভালো, মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী, রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। এ কারণে আগামী অর্থবছরে সম্প্রসারিত বাজেট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতে কু-ঋণ বেড়ে গেছে। এ খাতে জরুরী সংস্কার করতে হবে। এছাড়া সুদের হারের সঙ্গে ব্যাংকের ডিপোজিট রেটের প্রার্থক্য বাড়ছে, এটি সমন্বয় করতে হবে।
রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল। বর্তমানে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যান্য বারের মতো এবারও রাজস্ব আহরণে ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে চাঙ্গাভাব আছে।
তিনি আরো বলেন, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না এনবিআর। কারণ জুলাই-অক্টোবরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতি থাকায় চতুর্থ প্রান্তিকে ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এ সময় চলতি অর্থবছর বছর শেষে মোট রাজস্বে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সিপিডি।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অধিক প্রণোদনা এবং তেলের দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি টাকার মূল্যমান কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিপিডি’র ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।







