কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণহানির ঘটনায় ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে। এ ঘটনায় ভারতীয়দের বিপক্ষে লন্ডনে পাকিস্তানের হাইকমিশনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই উত্তেজনার মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোববার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টেলিফোন আলোচনায় অংশ নেন।
এসময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তকে সমর্থন করে চীন। চীন আশা করে যে উভয় পক্ষই সংযম প্রদর্শন করবে। একে অপরের দিকে এগিয়ে আসবে এবং উত্তেজনা কমাতে কাজ করবে।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পেহেলগামে হামলার পেছনে থাকা সন্ত্রাসী ও ষড়যন্ত্রকারীদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলছেন, পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডে সঠিক তদন্ত হোক, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগের খেলা খেলছে।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এ ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানি হাইকমিশনে ভারতীয়দের বিপক্ষে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এর আগে হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে ভারতীয়রা। জবাবে পাকিস্তানিরাও পাল্টা বিক্ষোভ করে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এসময় তারা আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাকিস্তানকে কিভাবে জবাব দেওয়া হবে সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ওই আলোচনার কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের এক মন্ত্রী বলেছেন ভারতের দিকে ১৩০টি পারমানবিক অস্ত্র তাক করা রয়েছে।
এছাড়া উত্তেজনার মধ্যে গত তিন দিন রাতের বেলায় কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কাশ্মীরে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বেশকিছু বাড়ি ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনারা।








