ঘড়িতে সময় বেলা ১১টা দেখালেও চোখে দেখে বিশ্বাস হতে চায় না যে সময়টা রাত ১১টা নয়। প্রকৃতি যেন ঘনকালো মেঘের চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে পুরো আকাশটাকে। সেই চাদর সরিয়ে সূর্য তার মুখটা আর দেখাতে পারছে না।
সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল ছাইবর্ণ। বেলা বেড়ে সকাল হতে হতে আকাশ আলো হওয়ার বদলে আরও কালো হয়ে গেল। রাতের মতো আঁধার নেমে শুরু হলো কালবৈশাখীর তীব্র ঝড় আর বজ্রসহ বৃষ্টি।
বৈশাখ মাসের অনুষঙ্গ কালবৈশাখী ঝড় গত কিছুদিন ধরেই যখন তখন তার তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার সকালেও দেখা গিয়েছিল একই অবস্থা।
তবে ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার পর ধীরে ধীরে মেঘ কিছুটা হালকা হয়ে দিনের আলো ফুটে উঠতে শুরু করেছিল। আর আজ ঘন মেঘে সকাল ১১টায়ও সন্ধ্যা-রাতের অন্ধকার।
সোমবার সকাল থেকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবন। সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টায় তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
বিভিন্ন রাস্তায় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি কালবৈশাখীর প্রকোপে যানবাহন পেতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীরা টাইমলাইনসহ বিভিন্ন ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে ঝড় ও মেঘলা আকাশের ছবি পোস্ট করে রাস্তার দুর্ভোগের কথা শেয়ার করছেন।
বেলা সাড়ে ১১টার সময়ও রাস্তায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর মতো দেশের অন্য কিছু স্থানেও কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবাণীতে জানানো হয়, সোমবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, হাতিয়া, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলসমূহে বজ্র ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া এই অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ৬০-৮০ কিলোমিটার, বা আরও বেশি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সতর্কবাণীতে জানানো হয়েছে।
আরও অন্তত দু’তিন দিন কালবৈশাখীর এ অবস্থা থাকবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।







