আঠারো বছর বয়সী মোহাম্মদ আলমের অভিধানে এখন ‘বাড়ি ফেরা’ শব্দটাই নেই। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই রোহিঙ্গা সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমি এখানে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবো, জেল খাটবো তবু নিজের দেশের মাটিতে মরতে যাবোনা।’
‘মিয়ানমারে আমাদের আইডি কার্ডও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। ক্রমাগত নিগৃহীত করা হতো আমাদের। দিনের পর দিন গৃহবন্দী থাকতাম। অন্যান্য সাধারণ নাগরিকের মতো ঘরের বাইরে যাওয়ার সুযোগও আমাদের ছিলো না।’
আলম মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটের মংডু জেলার বাসিন্দা। মালয়েশিয়ার কঙ্গরের এক কনস্ট্রাকশন সাইটে এখন থাকে সে। আট মাস যাবৎ এখানে বসবাস করছেন তিনি।
প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করে মাত্র ৩০ রিঙ্গিত আয় করেও সন্তুষ্ট আলম।
‘এখানে যদি আরো বেশি কাজ করি, মালিক আমাদের আরো টাকা দেবে।’
অপরিচ্ছন্ন একটি রান্নাঘর এবং পাতলা প্লাইউডের খাটসহ এলোমেলো একটি ঘরেই রাত যাপন করে আলম। কোনো ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের কারণে তার জেলও হতে পারে। কিন্তু এটা মিয়ানমারের দিনগুলোর চেয়ে কম কষ্টেরই হবে বলে মনে করেন তিনি।
আলম বলেন, নিজের দেশে যদি অনিরাপত্তায় না ভুগতাম তাহলে নিশ্চয়ই দেশ ছেড়ে আসতাম না।’
এমন অনিশ্চিত জীবন জেনেও নৌকায় করে মালয়েশিয়ায় যেতে আলমের কাছে ৩ হাজার রিঙ্গিত চেয়েছিলো পাচারকারীরা। টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ার পরিবর্তে থাইল্যান্ডে নিয়ে আটকে রাখা হয় একটি ঘরে। শেষে আরো ৮ হাজার রিঙ্গিত দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে মালয়েশিয়ায় আসেন তিনি।
আলমের সাথেই একই কনস্ট্রাকশন সাইটে থাকছেন সনসো আলম। এখানে দেখা হওয়ার পরে আবিষ্কার করেন একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তারা। মিয়ানমার থেকে ২৫ দিনের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডে পৌঁছান সনসো। এরপর তাকে একটি ট্রানজিট হাউজে দুইমাস আটকে রাখা হয় অতিরিক্ত ৮ হাজার রিঙ্গিত না দেওয়ার জন্য।
সনসো বলেন, ‘আমার পরিবার টাকা দিয়ে মুক্ত করে। ওই টাকা যোগাড় করতে বাবা-মা তাদের জমি জায়গা বিক্রি করে দেয়। এখন তারা আমার ভাইয়ের সাথে থাকে।’
প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে ট্রানজিট হাউজ থেকে ছাড়া পেয়ে এই কনস্ট্রাকশন সাইটে যোগ দেয় সনসো।






