বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে গণজাগরণ কর্মী শাহরিয়ার মজুমদারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে। এটা কি হত্যা নাকি আত্মহত্যা? এই প্রশ্নটিই ঘুরে ফিরে আসছে বারবার।
রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়ার সুরমা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের চার নম্বর রোডের ৫৪ নাম্বার বাসায় চারতলায় অবস্থিত মেসের কক্ষে জানালায় বেল্টে ঝুলন্ত অবস্থায় শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, শাহরিয়ার আত্মহত্যা করেছেন। তবে শাহরিয়ারের বন্ধুদের দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে রহস্য রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা উদঘাটন করতে হবে।
শাহরিয়ারের সহপাঠীরা বলেন, শাহরিয়ারের এই মৃত্যুকে আমরা হত্যাই বলবো। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
একই দাবি করেছে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চ। সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের আরেক কর্মী রাজীব রাসেল বলেন, অন্যদের মতো শাহরিয়ারের উপরও একধরণের হুমকি ছিলো। সে বন্ধুদের বলেছে, সে সমস্যায় আছে। যেভাবে তার লাশ পাওয়া গেছে, যে উচ্চতায় সে ঝুলে ছিলো, সেভাবে আত্নহত্যা করা সম্ভব না। এটাকে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।
সিলেটের এসএমপি এডিসি (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এখন তদন্ত করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিষয়ে অর্নাস শেষ করে কিছু ড্রপ কোর্স করার জন্য ব্যস্ত ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে।
শাবিপ্রবি সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক শাহরিয়ার বগ্লার অভিজিৎ রায় হত্যার প্রতিবাদে বগ্লার এন্ড অনলাইন এক্টিভিষ্ট সিলেট আয়োজিত মিছিলে অংশ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের হুমকির পাচ্ছিলেন।
সিলেটটুডে২৪.কম জানিয়েছে, এর আগে তাকে কাফনের কাপড় ও এর সঙ্গে একটি চিরকুট পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
শাহরিয়ারের বন্ধু ও শাবি ছাত্রফন্টের নেতা সুদিপ্ত জানান, শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী কর্মসূচির অায়োজন করেছিলো শাহরিয়ার। সেদিনও তাকে প্রাণবন্ত ও হাসিমুখে দেখা গিয়েছিলো।
তিনি বলেন, শাহরিয়ার কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। এই মৃত্যু রহস্যজনক।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সিআইডির ক্রাইম সিন দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে।
শুক্রবার ওসমানী হাসপাতালে শাহরিয়ারের ময়না তদন্ত হয়েছে। তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে পাঠানো হবে
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অনেক সময় বসা অবস্থায়ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। একে আসলে “পার্শিয়াল সুইসাইড” বলে।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ শাহরিয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পায় বাসার মেঝেতে মরদেহ পড়ে রয়েছে। পড়ার টেবিলের উপর তার ল্যাপটপটি চালু অবস্থায়।
শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়া, অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকসহ শাবি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
লাশ উদ্ধারের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিদুল ইমলাম সুমন ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ‘২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই অনেক রাজাকারপ্রেমী জঙ্গির চক্ষুশুল শাহরিয়ার। তখন থেকে সে বিভিন্ন সময়ে কিছু মৃত্যু পরোয়ানার মতো চিঠি এবং অন্যান্য হুমকি পেয়েছে।
শাহরিয়ারের উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, আমি ওর সেফটি নিয়ে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম, বলতাম একা চলাফেরা না করতে’।
শাহরিয়ারের মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারার কথা উল্লেখ করে সুমন লিখেন, ‘এখনও রুমে একা থাকা অবস্থায় মারা গেলো এবং সেটাকে সুইসাইড বলা হচ্ছে, আমি মেনে নিতে পারছি না’।






