বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের যে কয়টি প্রাকৃতিক বন এখনো মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান তাদের মধ্যে অন্যতম। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই উদ্যানে দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি জীববিজ্ঞানের নানা ধরণের গবেষণার দ্বারও উন্মোচিত হয়েছে।
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই ৫ হাজার ৪শ’ ৬৪ হেক্টর এলাকা নিয়ে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। উঁচু নিচু পাহাড়, নদী ও হ্রদ দিয়ে পরিবেষ্টিত এই উদ্যানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
এই বনের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কর্ণফুলী নদী।এখানকার ছোট বড় পাহাড়ের গা বেয়ে বেড়ে ওঠা মিশ্র চিরসবুজ বনের বৃক্ষসমূহ বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল।
এখানকার বৃক্ষরাজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাপালিশ, গর্জন, তেলশুর, সেগুন, জারুল, ছাতিম ইত্যাদি। এই উদ্ভিদরাজির কারণে এই উদ্যান নানা রকম বন্যপ্রাণীর এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
কীটপতঙ্গ ও প্রজাপতিসহ এখানে বিচরণ করে উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিভিন্ন প্রজাতি। পাশাপাশি এখানে টিকে আছে বেশ কিছু বিপন্ন প্রাণী।
কিন্তু বনের ভেতরের রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দূর্বিষহ করে তুলছে। এছাড়া অধিক মাত্রায় বনজ সম্পদ আহরণ ও বনভূমি উজাড় করার ফলেও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননভূমি কমে যাচ্ছে।
ফলে উদ্যানের বেশকিছু প্রাণী এখন বিপন্ন। সেই সাথে বিপদগ্রস্থ এই উদ্যানের সামগ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা। তাই এই উদ্যানের জীববৈচিত্র রক্ষায় প্রয়োজন যুগোপযোগী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ।







