বিএনপি এবার ইউপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আবার ঘোষণা ফিরিয়ে নিল। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফলাফল দেখে হয়ত তাদের এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ইচ্ছা জেগেছিল। তৃতীয় দফায় যেসব নেতা ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন তারা কি খালেদার বর্জন সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন হতে সরে দাঁড়াতেন? হয়ত কেউ সরতেন কেউ সরতেন না। অল্প সময়ের ব্যবধানে খালেদার ঘোষণা ও ঘোষণা প্রত্যাহার জাতির সামনে দৃশ্যমান হল।
এই সরকারের গোড়া পত্তন ঘটে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে। সেটি প্রতিহত করতে না পেরে হতাশায় খালেদাকে যেনো কানাওয়ালী রোগে পেয়েছে। গাছের শেকড় মানিনা গাছের ডাল,পাতা মানি এই অবস্থা চলছে তাদের। তারা এই সরকারকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়েছে বলল। ৫জানুয়ারীর নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতা ও স্থায়িত্বও দেশ দুনিয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এ নির্বাচনে গঠিত সরকার টিকবেনা এটাই অনেকের ধারনা ছিল। কিন্তু টিকে গেল। এ সুযোগে অনেক অজনপ্রিয় ব্যক্তি বিনা খরচে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে গেল। অনেক জনপ্রিয় নেতা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে নির্বাচন হতে দূরে রইল। অথচ তারা স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে গেলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন হত।
এই নির্বাচন বর্জনের ভুল গাইড লাইনে খালেদা ও তার জোট সর্বশক্তি ব্যয় করে শক্তিহীন হয়ে এখন রাজপথে দাঁড়াবার যোগ্যতা হারাল। এখন কী করবে খালেদা? কী করবে তার জোট? তারা কেন তাদের ভাষায় অবৈধ সরকারের অধীনে উপজেলা,মেয়র ও ইউপি নির্বাচনে গেল। তারা তাদের অবস্থান ও করনীয় ঠিক করতে পারেনি। তাদের উচিত ছিল ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের অধীনে সকল নির্বাচন বর্জন করা। সেটি করতে পারলে রাজনৈতিক অর্জন ভিন্নতর হত। উপজেলা,মেয়র ও ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় খালেদার কী রাজনৈতিক ফায়দা হল? এর কি ব্যাখ্যা দেবেন তিনি ও তার উপদেষ্টা মণ্ডলী।
গ্রাম দেশে কানাওয়ালা / কানওয়ালী রোগের কথাটা চালু আছে। 
এ রোগে ধরলে যার যেদিকে যাওয়ার কথা সেদিকে না গিয়ে অন্যদিকে ছুটে। ভুল বুঝতে পেরে আবারও নতুন ভুলপথে যায়। নতুন ভুল বুঝতে পেরে আবার পা বাড়ায় আরেক ভুল ঠিকানায়। ইনসান আলী নামের এক লোককে কানাওয়ালায় পেয়েছিল রাতে বাজার ব্যাগ হাতে বাড়ি ফেরার সময়। নিজের গ্রামের রাস্তা ভুলে পাশের গ্রামে চলে যায়। হাঁটতে থাকে আর হাঁটতেই থাকে। হাঁটতে হাঁটতে এক চোরের ঘরে ঢুকে গেল। চোর চুরিতে গেছে। চোরের বউ ঘরে ছিল।
ইনসান আলিকে প্রথমে দেখে ক্ষেপে যায় পরে বাজার ব্যাগ দেখে স্থির হয়ে যায়। ইনসান আলিকে বসতে দেয়। বলে হাত মুখ ধুয়ে আসেন। ইনসান আলি ভাবে এটাই তার বাড়ি। চোরের বউ ব্যাগটা সরিয়ে নিল। ইনসান আলি গোয়াল ঘরে গরু দেখতে যেয়ে আবার পথ ভুলে হাঁটতে থাকে। ততক্ষনে চোরের বউ তার বাজার ব্যাগ খুলে রান্না বসিয়েছে।
ইনসান আলি হাঁটতে হাঁটতে এবার ঢুকে গেল স্থানীয় এক বাজারের পুরান কাপড়ের দোকানে। দোকানদার ছেঁড়া, পুরান জামা,পাঞ্জাবী,পাজামা সেলাই ও ইস্ত্রি করে বিক্রি করে। ইনসান আলি নিজের ঘর ভেবে পাঞ্জাবিটা খুলে টিউবওয়েলে মুখ ধুতে গিয়ে আবার হাঁটতে থাকে। ততক্ষনে পুরান কাপড়ের দোকানদার তার পাঞ্জাবিটার মূল্য ঠিক করে নিল। ইনসান আলি এবার একটি কবরস্থানকে নিজের ঘর ভেবে তার স্ত্রী সখিনাকে ডাক দিল,ও সখিনা আমি আসছি। ততক্ষনে একদল শেয়াল একযোগে ডেকে ওঠে। ইনসান আলি তখনও ডেকে চলছে,ও সখিনা। কে শুনে তার কথা। সে সহ আশেপাশের সবাই শুধু শেয়ালের ডাকই শুনছে। কানাওয়ালা রোগীদের এরকম অবস্থাই হয়।
খালেদার ইউপি নির্বাচন প্রত্যাখানও ইনসান আলির সখিনাকে ডাকার মতই হত। এই ঘোষনায় কারও কিছু আসত না যেতনা। একবার বিপথে গেলে পথে ফেরা যে কত কঠিন তার জ্বলন্ত উদাহরণ হতে চলেছেন খালেদা জিয়া। তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। এতদিন বক্তৃতায় বলে আসছেন তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। এখন বলেন তিরিশ লাখ তত্ত্ব ঠিক নয়। বলেন অবৈধ সরকারের সাথে কিসের সংলাপ আবার সংলাপে বসার প্রস্তাবও দেন। তার ভাষায় অবৈধ সরকারের অধীনে সব নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকারকে বৈধতা দিয়ে এখন মাঝপথে ইউপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়ে আবার তা ফিরিয়েও নিলেন। মনে হতেই পারে কানাওয়ালা রোগের চূড়ান্ত পর্যায় ভর করেছে খালেদাকে। তার সর্বশেষ কোথায় এখন সেটাই দেখার বিষয়।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







