এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মেয়েদের ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে যে চরম ভোগান্তি আর অপমানের শিকার হতে হয়েছে দেশবাসীর সামনে তা প্রথম তুলে ধরেন যমুনা টিভির ময়মনসিংহ ব্যুরো চিফ হোসাইন শাহীদ।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রামের সেই দুর্দান্ত মেয়ে ফুটবলারদের কষ্টযাত্রার পেছনের কথা জানতে তার সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন।
এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সানজিদা-মারিয়ারা ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছে এমন খবরে অফিসিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী তাদের ঈদ ‘আনন্দযাত্রা’র উপর রিপোর্ট করতে ময়মনসিংহের পাটগুদাম থেকে তাদের সঙ্গী হন হোসাইন শাহীদ।
তিনি বলেন, সড়ক পথে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার, আর ময়মনসিংহ থেকে কলসিন্দুরের দূরত্ব ৮২ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সকাল ৮টায় তারা রওনা হয় আর পাটগুদাম তারা পৌঁছায় দুপুর ১২টায়। গাড়িতে উঠেই আমি বুঝতে পারি ‘আনন্দযাত্রা’ প্রতিবেদন আজ বিষাদে পরিণত হবে।
শাহীদ বলেন, বুধবার ছিল প্রচণ্ড গরম, আমি গাড়িতে ওঠেই দেখি মারিয়া-সানজিদাদের অবস্থা নাজেহাল। কলসিন্দুর গ্রাম সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় রাস্তার অবস্থা এবড়ো থেবড়ো। লোকাল বাস হওয়ায় জায়গায় জায়গায় গাড়ি থামায়। এর মাঝেই রয়েছে মারিয়া-সানজিদারা। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম সানজিদা যাত্রা পথের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জানালার পাশ দিয়ে বমি করল, মারিয়া গরমে অসুস্থ হয়ে খানিকটা অচেতন অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন: অনূর্ধ্ব ১৬ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে এর আগেও কাজ করেছি তাই তারা আমার পরিচিত মুখ, তাদের কষ্ট আমার সহ্য হয়নি। বাস বিভিন্ন জায়গায় স্টপেজের সময় আমি ঠাণ্ডা পানি, স্যালাইন এসব কিনি। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে জানতে পারি মেয়েরা নাকি ত্রিশাল এলাকায় কয়েকজন যুবকের দ্বারা বাজে আচরণের শিকার হয়েছে। আমি অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করি ওই যুবকরা কেউ গাড়িতে আছে কিনা। তারা জানায়, পাটগুদামের আগেই তারা নেমে গেছে।
হোসাইন শাহীদ বলেন, কলসিন্দুরে পৌঁছানোর পরও ভোগন্তির শেষ হয়নি নারী ফুটবলারদের, ওখান থেকে তাদের নিজেদের বাড়ি ফিরতে হয় অটো রিকশাতে করে, ভ্রমণ ক্লান্তি থাকায় তাদের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। এরপর তাদেরকে নিজ নিজ বাড়ি পৌছে দেই। বাড়ি পৌঁছানোর পর বাবা মায়ের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর সুযোগ না দিয়েই তাদের ইচ্ছা্র বিরুদ্ধে স্থানীয় সংবর্ধনায় অংশ নিতে হয়।
ময়মনসিংহ থেকে কলসিন্দুর পর্যন্ত যাত্রা পথে মারিয়া-সানজিদাদের সঙ্গে থাকা হোসাইন শাহীদ বলেন, এই কষ্ট যাত্রায় নারী ফুটবলাররা ছিল বিমর্ষ, দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেও তাদের সহ্য করতে হয়েছে লাঞ্ছনা-বঞ্চনা। এ যাত্রা তাদের কনফিডেন্স লেভেলটাকে কমিয়ে দিয়েছে। তাদের চোখমুখ বলছিল, এতটুকু যত্ন কি আমরা পেতে পারি না?
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে পুরো ১৫ পয়েন্ট নিয়েই আগামী বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এএফসি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। দলের বেশিরভাগ মেয়েই ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার।








