দিনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায় কর্মক্ষেত্রে। তাই কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকাটা জরুরী। সহকর্মীর সাথে আড্ডার বিরতি না নিলে একঘেয়ে মনে হয় কর্মক্ষেত্র। তবে সহকর্মীর সাথে বন্ধুত্বের জন্য চাই কিছু সচেতনতা এবং সেই সঙ্গে কিছু আদব কেতাও জেনে রাখা জরুরী। জেনে নিন কর্মক্ষেত্রের বন্ধুত্বের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য।
সময় নিন
নতুন কর্মক্ষেত্রে গিয়ে শুরুতেই কাউকে বন্ধু ভেবে নেবেন না। ভালো-মন্দ বোঝার জন্য নিজেকে কিছুটা সময় দিন। আপনার প্রতি যারা ইতিবাচক, তাদের সাথে ধীরে ধীরে সখ্যতা গড়ে তুলুন।
টিমের বাইরেও বন্ধুত্ব
নিজের টিমে বন্ধু থাকা অবশ্যই জরুরী। তবে, বন্ধুত্বকে শুধুমাত্র নিজের টিমে সীমাবদ্ধ না রেখে চেষ্টা করুন টিমের বাইরেও কর্মক্ষেত্রের অন্যান্যদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে। অন্য টিমের সহকর্মীদের সাথে প্রতিযোগিতা না থাকার কারণে সাধারণত সেই সম্পর্কগুলোই বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর হয়।
নিরপেক্ষ থাকুন
কাজের মাঝে বিরতি না থাকলে একঘেয়ে লাগে। চা-নাস্তার ফাঁকে সহকর্মীর সাথে একটু কথাবার্তা মনটাকে ফুরফুরে করে তোলার পাশাপাশি কাজের প্রতি স্পৃহা বাড়িয়ে তোলে। তবে গল্পগুলো যেন নিরপেক্ষ থাকে সেই ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। বস বা সহকর্মীর বদনাম, অফিসের নেতিবাচক নানান দিকগুলোকে গল্পের বিষয় হিসেবে বেঁছে নেবেন না।
হালকা বিষয় নির্বাচন করুন
সহকর্মী বন্ধুর সাথে কথার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন হালকা বিষয় নির্বাচন করতে। পারিবারিক সমস্যা, রাজনৈতিক মতবিরোধ, দাম্পত্য ইত্যাদি বিষয়গুলো সহকর্মীর সাথে আলাপ না করাই ভালো। আড্ডার জন্য এমন কোনো বিষয় নির্বাচন করুন যা আপনার পারিবারিক এবং রাজনৈতিক গোপনীয়তা নষ্ট করবে না এবং তর্কাতর্কি পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। হালকা এবং মজার কোনো বিষয়ে আড্ডা দিয়ে মনের ওপর থেকে কাজের চাপ কমান। কোন বই পড়েছেন, কোন গান শুনেছেন এধরণের গঠনমূলক নিরপেক্ষ আলাপগুলো করার চেষ্টা করুন সহকর্মীর সাথে। কথার মাধ্যমে যেন আপনার রুচিবোধ প্রকাশ পায়, সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন।

বসও হতে পারে বন্ধু
অফিসের বসকে প্রথমেই শত্রু ভেবে নেবেন না। বসও বন্ধু হতে পারে। বসের সাথে সুযোগ পেলে পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আলাপ করুন। তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। যেকোনো প্রয়োজনে বসের থেকে সাহায্য চান। এতে বসের সাথেও ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব হয়ে যাবে আপনার।
প্রশংসা করুন
সহকর্মীকে হিংসা না করে প্রশংসা করুন। তার ভালো কাজে উৎসাহ দিন। এতে সহকর্মীর সাথে সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে। সেই সঙ্গে একে অপরকে সাহায্য করার মনোভাবও তৈরি হবে।
কর্মক্ষেত্রের বাইরেও সময় দিন
চেষ্টা করুন সহকর্মীর সাথে সম্পর্কটাকে শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রেই বেঁধে না ফেলতে। সহকর্মীর সাথে কর্মক্ষেত্রের বাইরেও চা খেতে যান কিংবা ঘুরে আসুন কোনো সুন্দর স্থান থেকে। উৎসবে, ছুটির দিনে, কিংবা সহকর্মীর অসুস্থতায় খোজ-খবর নিন। এতে সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে। ফেমিনা।









