তীরে এসে যেন তরী ডুবল বিজেপির। হার নিশ্চিত জেনে সম্ভবত আস্থা ভোটেই গেলেন না বিজেপি-শাসিত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা। পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে।
ইয়েদুরাপ্পার পদত্যাগের পর সরকার গঠনে কংগ্রেস-জেডি(এস) জোটকে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল। আগামী সোমবার শপথগ্রহণ করবেন জেডি (এস) নেতা কুমারস্বামী।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার বিকালেই আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকেই এ নিয়ে চলছিল টানটান উত্তেজনা। তবে শপথ গ্রহণের দুই দিনের মাথায় ইয়েদুরাপ্পাকে পদত্যাগ করতে হলো।
বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগেও বিজেপি দাবি করছিল ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় এই দাবি ভেস্তে যায়।
নাটকটা ভালই জমে উঠেছিল। দৌঁড়ে প্রথম থেকে এগিয়েই ছিল বিজেপি। ১২ মে নির্বাচন হয় কর্নাটকে। ১৫ মে নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করে। ১০৪ আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। কংগ্রেস পায় ৭৮ আসন এবং জিডি (এস) ৩৭।
সরকার গড়তে বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয়েরই জেডি (এস)-র সঙ্গে জোট করার প্রয়োজন ছিল। ১৬ মে কর্নাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালা বিজেপিকে ডেকে পাঠান। এবং পরদিন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী বি এস ইয়েদুরাপ্পাকে শপথ নিতে বলেন।
রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় কংগ্রেস। ১৬-১৭ মে মধ্যরাতে শুনানি চলে সুপ্রিম কোর্টে।
১৭ মে রাত ২টা ১১ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। ইয়েদুরাপ্পার শপথগ্রহণে স্থগিতাদেশ দেয় না সুপ্রিম কোর্ট।
১৮ মে সকাল ৯টায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন ইয়েদুরাপ্পা। সেদিনই শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় ১৯ মে’র মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রমাণ দিতে হবে ইয়েদুরাপ্পাকে।
কিন্তু আস্থাভোট শুরুর আগেই সবাইকে অবাক করে ইয়েদুরাপ্পা বলেন, ‘‘আস্থাভোটে যাব না, আমি ইস্তফা দিচ্ছি।”







