করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৬ মাস পরেও ৮৮ শতাংশ মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৭০০ মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোভিড ফলোআপ গবেষণাগুলোর একটি থেকে উঠে আসা এই তথ্যের পাশাপাশি আক্রান্তদের শরীরে দেখা দেয়া লক্ষণগুলোর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে ২৬ শতাংশের কাশির সমস্যা ছিলো, ২৮ শতাংশের জ্বর ছিলো এবং ৪৩ শতাংশ স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি হারিয়েছিলো। তাছাড়া ৪০ শতাংশের এসবের কোনোটা ছিলো না এবং ২০ শতাংশের কোনোই লক্ষণ ছিলো না।
এই গবেষণা ফলাফলে আগের কিছু গবেষণার তথ্যও যোগ করা হয়েছে যেখানে বেশিরভাগই মহামারীর কোনো না কোনো পর্যায়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় ২০০০০ সদস্যের ওই দলটির প্রত্যেকেরই মাসে একবার করে পরীক্ষা করা হয়েছিলো। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ ও সাউথ এশিয়ান এই মানুষগুলোর শরীরে অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল মেলে।
বৈশ্বিক এই মেডিক্যাল গবেষণায় সহযোগিতা করেছে যুক্তরাজ্য বায়োব্যাংক। ২৭ মে থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিজন অংশগ্রহণকারী প্রতিমাসে একবার করে রক্তের নমুনা দিয়েছে। এই সময়ে ১৬৯৯ জনের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যেটা আগে করোনা সংক্রমণকেই প্রমাণ করে।
তাদের বেশিরভাগেরই প্রথম মাসের পরীক্ষাতেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, তার মানে প্রথম ঢেউয়ের সময়েই তারা সংক্রমিত হয়েছিলেন। কিন্তু গবেষণার শেষে ছয় মাস পরেও তাদের ৮৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তাছাড়া যে ১২ শতাংশের ফলাফল পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয়েছে তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডিগুলি প্রান্তিকের নীচে নেমে যেতে দেখা গেলেও পরবর্তীকালে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা বজায় রেখেছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইউকে বায়োটেকের প্রধান বিজ্ঞান প্রফেসর নাওমি আলেন বলেন, এসব অ্যান্টিবডির উপস্থিতি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে সম্পর্কযুক্ত কিনা তা আমরা নিশ্চিত নই। তবে ফলাফল বলছে স্বাভাবিক সংক্রমণের পরে কমপক্ষে ছয় মাস মানুষ পরবর্তী সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত হতে পারে।
আরও দীর্ঘায়িত ফলোআপ আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কতটা লম্বা সময় এই নিরাপত্তা বলবৎ থাকবে।
ওই ২০ হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ১৬ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৪ শতাংশ সাউথ এশিয়ানের শরীরে, ৮.৫ শতাংশ শেতাঙ্গের এবং ৭.৫ শতাংশ চীনার শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ৩০ বছরের নিচের বয়সীদের মধ্যে এই মাত্রা ছিলো ১৩.৫, সেখানে ৭০ এর বেশি বয়সীদের মধ্যে ৬.৭ শতাংশ। এলাকাভিত্তিক পার্থক্যও আছে। লন্ডনবাসীদের বেশি বেশি অ্যান্টিবডি দেখা গেছে আর স্কটল্যান্ডবাসীর অ্যান্টিবডি সবচেয়ে কম।







