পাশের দেশ ভারতে একজনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ নিয়ে। ইউরোপে আগেই অনেকের মৃত্যুর পরে যুক্তরাষ্ট্রে আজ একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে দিনকে দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
এবছর শীত একটু বেশি সময় স্থায়ী হওয়াসহ নানা কারণে এবছর দেশজুড়ে সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ রয়েছে অনেকটাই। এই অবস্থায় দেশের জনগণের চিন্তায় রয়েছে করোনা আতঙ্ক।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো হলো – ক) সর্দি খ) গলা ব্যথা গ) কাশি ঘ) মাথা ব্যাথা ঙ) জ্বর চ) হাঁচি ছ) অবসাদ এবং জ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। এধরণের লক্ষণ দেখলে দ্রুত বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এ পরীক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত না হলেও সাধারণ সিজনাল ফ্লু’র যে লক্ষণ তা অনেকটা করোনা আক্রান্তের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং যারা বয়স্ক তাদের এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর ব্যাধির মতো মারাত্মক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর। করোনা প্রতিরোধে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি।
প্রাণঘাতি এই ভাইরাস ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত চিকিৎসাকে হার মানিয়ে অনেক আক্রান্তের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত গতিতে, এই প্রক্ষাপটে সাধারণ প্রস্তুতি ও নিয়ম-নিষেধের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পর্যায়ে বিশেষায়িত আইসিইউ, কোয়ারেন্টাইন জোনসহ নানা প্রস্তুতি নেয়া একান্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত চীনে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৩ হাজার মানুষ, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। চীনের বাইরে ৫৭টি দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। আমাদের সার্বিক কামনা, এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব যেনো দেশে না ঘটে।







