করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক যেমন আছে, ঠিক তেমনই চীন ফেরতদের নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এই গুজবের এখনো যদিও ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েনি তবুও বিষয়টি শঙ্কার। এছাড়া বিমানবন্দরে করোনা শনাক্তে সংশ্লিষ্টদের কিছুটা অবহেলার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় হজক্যাম্প থেকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সেখানকার অসতর্কতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীনের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বানীয়াশুরী গ্রামের বাদামতলা এলাকার বাসিন্দা হেলাল সিকদার। তিনি সাথে তার সুস্থতার ডাক্তারি সার্টিফিকেটও নিয়ে আসলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে হেলাল পরিবারের সদস্যদের থেকে ১৪ দিন আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
‘সেই মোতাবেক তার বাবা-মা, বোনসহ অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি থেকে অন্য স্থানে চলে যায়। বিষয়টি রোববার সন্ধ্যার পর জানাজানি হলে এলাকায় করোনা ভাইরাসের গুজব ছড়িয়ে পরে।’
হেলাল সিকদার সাংবাদিকদের জানান: তার করোনা ভাইরাস নেই। যেহেতু তিনি চীন থেকে এসেছেন তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তিনি তার পরিবারের সদস্যদের কিছুদিন অন্য জায়গায় থাকতে বলেছেন।
তিনি আরও জানান: চীন থেকে নিজ খরচে ফেরার পথে চারটি স্থানে স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যান করা হয়েছে তার। এছাড়াও তাকে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১৪ দিন রাখা হয়েছিলো। এতে তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরও তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এতেও তার শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তারপরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো তাকে বিশ্রামের জন্য ১৪ দিন পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে বলা হয়েছে।
চীন থেকে ফেরার পর ওই শিক্ষার্থী নিজ দায়িত্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এটা অবশ্যই প্রশংসার। অথচ তাকে সহযোগিতা করার বদলে এলাকায় করোনা ভাইরাসের গুজব ছড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে চীন ফেরত বাংলাদেশিরা যেমন মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, একইভাবে করোনা ভাইরাস সম্পর্কেও মানুষের মাঝে ভুল বার্তা যেতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তবে করোনা শনাক্তে দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্বীয় কর্মে অবহেলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে আমরা সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাচ্ছি।








