ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত বহুল প্রশংসিত সিনেমা ‘কমলা রকেট’। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানোর পাশাপাশি পুরস্কারও অর্জন করে সিনেমাটি। যে সিনেমাটি পরিচালনা করেন নূর ইমরান মিঠু। এটি তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা।
সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে! ২০১৮ সালের ১৬ জুন। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘কমলা রকেট’ বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে চলে সেসময়। সমালোচকরাও ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন নতুন এই পরিচালকের প্রথম ছবি।
সেই সিনেমা মুক্তির তিন বছর পূর্ণ হলো বুধবার (১৬ জুন)। এরমধ্যে সিনেমাটি চ্যানেল আইয়ের পর্দায় ওয়ার্ল্ড টেলিভিশন প্রিমিয়ার হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্সেও দেখা যাচ্ছে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে। স্ট্রিমিং শুরুর দিন থেকে এই প্লাটফর্মে টানা পাঁচ বছর দর্শক দেখতে পারবেন ‘কমলা রকেট’।
অনেকের কৌতুহল, ‘কমলা রকেট’ এর পর কী করছেন সেই নির্মাতা? সরাসরি এমন প্রশ্নই রাখা হয় নির্মাতা নূর ইমরান মিঠুকে। জানালেন, নিজের দ্বিতীয় সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন গেল বছরের অক্টোবরে। সিনেমার নাম ‘পাতালঘর’। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আবু শাহেদ ইমন। পরবর্তীতে সিনেমাটির সাথে যুক্ত হয়েছে চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
‘পাতালঘর’ এর সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে মিঠু জানান, সিনেমাটির ডাবিং শেষ পর্যায়ে। এখন সম্পাদনার কাজ বাকি। যতোদূর জানি, সিনেমাটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে প্রযোজক আগে চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে দিবেন, এরপর মুক্তির পরিকল্পনা করবেন। প্রেক্ষাগৃহ নাকি ওটিটি, এটা প্রযোজকের সিদ্ধান্ত।
প্রথম সিনেমার মতো নিজের দ্বিতীয় সিনেমা নিয়েও উচ্ছ্বসিত নূর ইমরান মিঠু। জানান, শুধু সিনেমায় নয়, ভিজ্যুয়ালি গল্প বলার ক্ষেত্রে আমি বরাবরই চেষ্টা করি চারপাশের মানুষের গল্প তুলে ধরতে। নিজের অভিজ্ঞতার গল্পগুলোই আমি তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি, ‘পাতালঘর’ সিনেমাতেও নিজের অভিজ্ঞতার গল্পই বলেছি। মহামারী সময়ের একটি গল্প বলেছি।
কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে শুটিং হওয়ায় লোকেশন হিসেবে এই নির্মাতা বেছে নিয়েছেন নিজের জন্মস্থান রাজবাড়ি। শুটিং করেছেন নিজের ঘর ও আশপাশে। আর এসবের জন্য এই নির্মাতা কৃতজ্ঞতা জানান প্রযোজক আবু শাহেদ ইমনের প্রতি।
এই সিনেমায় মামুনুর রশীদ, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, আফসানা মিমি, দীপান্বিতা মার্টিন এবং চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াসহ প্রায় ৩০ জন অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছেন।
‘পাতালঘর’ ছাড়াও মিঠু এরমধ্যে টেলিভিশনে বেশকিছু কাজ করেছেন। ওটিটি প্লাটফর্ম বিনজের জন্য নির্মাণ করেছেন একটি ওয়েব সিরিজ। সর্বশেষ গেল ঈদে বঙ্গর ‘বেজড অন বুক’-এ দেশের সাতজন গল্পকারের লেখা গল্পকে টেলিছবিতে রূপদান করেন সাত নির্মাতা। তারই অংশ হিসেবে নূর ইমরান মিঠু নির্মাণ করেন ‘শহরে টুকরো রোদ’। ‘কমলা রকেট’ এর মতোই শাহাদুজ্জামানের দুটি গল্প ‘উবার’ ও ‘টুকরো রোদের মতো খাম’ অবলম্বনে নির্মিত এই টেলিছবিটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে তৈরী করেন মিঠু ও শাহাদুজ্জামান।
নির্মাতা জানান, ইতোমধ্যে তিনটি সিনেমার চিত্রনাট্য প্রস্তুত আছে। একাধিক প্রযোজকদের সাথে প্রাথমিক কথাও হয়েছে।








