দেশের বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধের হার অনেক কমে এসেছে। স্বাধীনতা উত্তর ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের তুলনায় এই হার চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। তখন মোট বৈদেশিক ঋণের সাড়ে ১১ শতাংশই যেত সুদ পরিশোধে আর এখন তা মাত্র দুই কি আড়াই শতাংশ। চলতি অর্থনেতিক সমীক্ষা অনুযায়ী অনুদান ও ঋণের টাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের স্বক্ষমতা অর্জন করেছে।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে বিদেশ থেকে ঋণ ও অনুদানের অর্থ এসেছিলো ৯৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে অনুদান ছিলো ৩৮০ আর ঋণ ৫৭৮ মিলিয়ন ডলার। সেই ঋণের সুদ ও আসল বাবদ দায় পরিশোধ করা হয়েছিলো মোট বৈদেশিক মুদ্রার ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৫ এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দশক পর ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ঋণ ও অনুদান এসেছিলো ১৬৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেবছর সুদাসলে পরিশোধ করা হয় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার যা মোট বৈদেশিক মুদ্রার ১১ দশমিক ২ শতাংশ। দিনে দিনে অর্থনৈতিক স্বক্ষমতা অর্জনের পথে এগিয়ে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বেড়েছে, বেড়েছে ঋণ ও অনুদানের অংকও। কিন্তু আয় বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় দায় পরিশোধের হার গিয়েছে কমেছে।
১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মোট দায় পরিশোধের অংক নেমে আসে একক ডিজিট, ৭ দশমিক ৯ শতাংশে। পরের দশকে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে চলে আসে। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে দায় পরিশোধ হয়েছে মোট বৈদেশিক মুদ্রার মাত্র আড়াই শতাংশ, ক্রমান্বয়ে গত দুই অর্থবছরে তা আরো কমেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, এটি সেই বার্তায় দেয় যে আমরা সক্ষম। আমাদের ঋণের দায় এখন অনেক কম, আমাদের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে কম। কাজেই দেশ সাবলম্বী হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জাপান ইতোমধ্যে তাদের দেওয়া ঋণের সুদের সব অর্থ মওকুফ করে দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই অর্থ আবারো বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশে। এই পথ অনুসরণ করছে অন্য কয়েকটি দেশও।
শামসুল আলম আরও বলেন, ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে এমন অনেক দেশ আছে, আছে ব্যক্তিগত সংস্থা। জাপান তাদের যা পাওনা হয়েছিলো, সেটা তারা মওকুফ করে দিয়ে আবার সেটা আমাদের দেশেই বিনিয়োগ করেছে।
বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম বাংলাদেশ। বিদেশী ঋণ আর অনুদানের নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালে উন্নত দেশ লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পথে বাংলাদেশ।






