খিলগাঁওয়ে একটি সরকারি কবরস্থানের নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পরেও সেটি কবরের জন্য উন্মুক্ত না করে মার্কেট বসানো হয়েছে। এ কারণে চিরনিদ্রায় যাওয়া স্বজনদের কবর দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকাবাসী।
মায়ের জন্য মাত্র সাড়ে তিন হাত জায়গার জন্য কয়েক জায়গায় ঘুরতে হয়েছে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা শাহেদ আলমকে। নিজেদের এলাকা খিলগাঁওয়ে কবরস্থান আছে সেই ১০ বছর আগে থেকেই। কিন্তু দাফনের প্রস্তুতি পর্বের শুরুতেই তিনি জানলেন সেখানে মাটি পাওয়া যাবে না।
শাহেদ আলম বলেন, এই এলাকার মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে। আজ যেমন আমাদের হলো।
পরে শহজানপুরে অন্যের ব্যক্তিগত একটি কবরস্থানে জায়গা হয় মতিয়ারা বেগমের। আর তার সুত্র ধরেই বেরিয়ে আসে এক ভয়বহ অনিয়মের তথ্য।
কাগজে কলমে শুধু নয়, বাস্তবেই এটি কবরস্থান, কিন্তু তা এখন এক বিরাট মার্কেট। ২০০৫ সালে প্রায় ৬ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয় এই করবস্থানের জন্য। তিন বছরের মধ্যে আধুনিক কবরস্থান নিমার্ণের কাজও শেষ হয়।
কিন্তু এখন সেখানে চলছে জমজমাট ব্যবসা। এলাকাবাসী বলেন, এতোদিন এখানকার কোনো খবরই নেওয়া হয়নি। এখানকার বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়েছে। কবরস্থান হয়ে উঠেছে মাদকের আখড়া।
স্থানীয় কাউন্সিলর জানান, খুব শিগগিরই বিষয়টির সমাধান করবেন তারা। কাউন্সিলর বলেন, এই জমি যাদের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছিলো তারা মামলা করায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে সেই মামলা এখন নিস্পত্তির পথে।
সৃষ্টির সেরা জীবের শেষ যাত্রায় এই যে এত বিড়ম্বনা এটাকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না এলাকাবাসী। মাটির নিচের জমির নিয়ে মাটির উপরওয়ালাদের এমন বানিজ্য বন্ধ করে কবরস্থানটি চালু করার আবেদন করেছেন তারা।







