‘মুড নেই’ বা দুঃখের ইমোতে ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। যেন কেউই ভালো নেই। সময় ও কাজ দুটো মিলিয়ে অনেক বেশি চাপের মুখে পুরো জগত। এই অবস্থায় আপনি কতটা সুস্থ? মন ঠিকঠাক আছেতো? নাকি ভয়াবহ চাপে সেও ভারাক্রান্ত।
মনের রোগকে বলা যায় ‘নীরব ঘাতক’। আপনি ক্রমাগত মনের বিষে পুড়তেই থাকলেন, কিন্তু না কেউ টের পেলো, আর না কেউ জানতে পারলো। এই অবস্থা চলতে থাকলে একসময় মনের রোগকে আপনি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না। বরং মনই আপনাকে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে।
জেনে নিন মানসিক চাপের বেশ কিছু কারণ। কারণ জানলেই সমাধান আনা সহজ হবে।
জিন: কাজের চাপ এবং শারীরিক সমস্যার মধ্যে সম্পর্কটা অনেক জোরালো। আপনি কতটা আশাবাদী, আত্নবিশ্বাসী, আত্নসমালোচক মানুষ সেসবও মানসিক চাপকে অনেকখানি প্রভাবিত করে। জিনকে তো আর আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো না, বরং সমস্যা সমাধানে আমরা স্বাস্থ্যকর এবং চাপ কমাবে এমন সব অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।
চিনি: অবাক হওয়ারই বিষয়। চিনির মতো মিষ্টি একটা খাবার কিভাবে মানসিক চাপকে প্ররোচিত করতে পারে? সঠিক খাবার এবং ব্যায়াম মানুষকে সুখী ও চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। চিনি আমাদের হরমোনকে খুশি করে কিন্তু শরীরের তো অন্য কিছু উপাদানও দরকার। তাই শরীর ঠিক রাখতে বাড়তি চিনির থেকে একটু দূরেই থাকুন। দেখবেন ভালো থাকবে মনও।
ক্যাফেইন: অনেকেই মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে কাপের পর কাপ কফি খেয়ে চলেন। আদতে এটা চাপ কমায় না বরং মানসিক চাপকে আরো বেশি ভয়াবহ করে তোলে। অল্প খানিকটা ক্যাফেইন হয়তো শারীরিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে কিন্তু বেশি কফি শরীরের ক্ষতিরই কারণ।
চাপের প্রতি মনোভাব: মানসিক চাপকে আমরা কিভাবে গ্রহণ করছি সেটার উপরই নির্ভর করে চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অনেকেই মানসিক চাপ থেকে রেহাই পেতে ভারী খাবার, ব্যায়াম বাদ দেয়া বা লম্বা সময় ধরে কাজ করে। এতে আরো গুরুতর হয় মানসিক সমস্যা।
প্রযুক্তি: খেলার জন্য হোক কি কাজের জন্য এই প্রযুক্তি আপনাকে আরো চাপের মুখেই ফেলবে। মন বেশি চাপযুক্ত হলে চেষ্টা করুন প্রযুক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। ছুটির দিনগুলোতে শুধু শুধু ইমেইল চেক করে নিজেকে আরো যন্ত্রণার মধ্যে ফেলার দরকার কী?
ছোট ছোট বিরক্তি: মুদি দোকানের কর্কশ স্বর, ইন্সুরেন্স বা ফোন কোম্পানীর ক্রমাগত ফোন বা এসএমএস, পার্কিং প্লেস খুঁজতে গিয়ে অনেকটা সময় নষ্ট হওয়া, এমন সব ছোট ছোট বিরক্তিই আমাদের আরো মানসিকভাবে চাপে ফেলে দেয়। অযথা বিরক্তি তৈরি করে মস্তিস্কে। সেসব না হয় উপেক্ষা করতেই শেখান নিজের মনকে।
অন্যদের চাপ: বিশ্বাস করুন বা না করুন। অন্যদের চাপও আমাদের প্রভাবিত করে। যারা অন্যদের খুব মানসিক চাপের কোনো কাজ শেষ করতে দেখে তারা নিজেরাও মানসিক চাপে আক্রান্ত হয়।
কারণতো জানা হলো। শরীরের জিনকে কখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু বাকি কারণগুলোর সঙ্গে যুদ্ধটা কিন্তু আপনাকেই করতে হবে।






