গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একটি রেস্টুরেন্টে বড়দিনের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৬ জনের নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি জানায়, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনী’র জনাকীর্ণ একটি রেস্টুরেন্টে শনিবার এ হামলার ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়।
পুলিশ হামলাকারীকে ভবনের ভেতরে প্রবেশের প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও তিনি ভবনটির প্রবেশ দ্বারে ছুটে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ ৬ জন নিহত হয়েছে।
এ হামলার জন্য জঙ্গীগোষ্ঠী এলাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এডিএফ)কে দায়ী করেছে কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ। এ গোষ্ঠীর সাথে আইএস’র সংশ্লিষ্টতার কথাও জানান তারা। তবে এখনও পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে বিবিসি জানায়, রেস্টুরেন্টে স্থানীয় কিছু অফিসার ও শিশুরাও ছিল।
এএফপি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় রেডিও উপস্থাপক নিকোলাস একিলা বলেন, তিনি সেখানে ছিলেন। পার্ক করা একটি মোটরবাইক হঠাৎ স্টার্ট দেয়ার পরপরই বিকট শব্দ হয়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় অধিবাসীদের নিজেদের বাড়িতে অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সামরিক বাহিনী।
সাম্প্রতিক সময়ে বেনী শহরে বারংবার সামরিক বাহিনীর সাথে ইসলামপন্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিলো বলে জানায় বিবিসি।
চলতি বছরের নভেম্বরে এডিএফ বর্বর আক্রমণ নির্মূলে কঙ্গোলিজ ও উগান্ডান ফোর্স যৌথ অভিযান শুরু করে।
উগান্ডার কর্তৃপক্ষ এডিএফ গ্রুপকে সাম্প্রতিক সময়ের দেশটির রাজধানী কাম্পালা সহ অন্যান্য হামলার জন্য দায়ী করেছে।
১৯৯০’র দশকে তৎকালীন উগান্ডান সরকারের মুসলিমদের প্রতি বিরূপ আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে জঙ্গী দল গঠন করে। পরবর্তীতে দলটিকে দমন করা হয় দেশটি থেকে। দলের অবশিষ্টাংশ সীমানা অতিক্রম করে গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে পালিয়ে যায়। পরে তারা নিজেদেরকে দেশটির পূর্বাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত করে।
গত কয়েক দশকে এ অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, আক্রমণ, খিস্টানদের উপর আক্রমণ সহ অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য দায়ী করা হয়।
চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট এডিএফ কে আইএস’র সাথে সংশ্লিষ্ট দাবি করে জঙ্গী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। আইএস দলটিকে নিজেদের শাখা বলে দাবি করে আসছে।








