বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাগরে জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নীচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে দ্বীপবাসি। বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন। কোমেনের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আজ ভোর রাত থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে বেশ কিছু গাছ পালা উপড়ে পড়েছে বলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সেন্টমার্টিনে ৩ টি নৌকা নোঙ্গর করা অবস্থায় ডুবে গেছে। তবে কোন প্রাণহানীর খবর পাওয়া যায়নি। মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা।
দ্বীপের পশ্চিমপাড়ায় গাছচাপায় মো. ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে গাছের নীচ থেকে উদ্ধার করেছে। আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।
কক্সবাজারে এখনো বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেছেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর এটি এখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘কোমেন’। ঘূর্ণিঝড়টি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম, বরিশাল, কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি এ মুহূর্তে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার ও চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে।’ এটি ক্রমশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
গতকাল রাত ১১ টার পর থেকে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে মাইকিং । প্রথম দিকে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে না আসলে ও শেষ রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করে। রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও সচেতনতার সাথে কাজ করছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন,জানিয়েছেন, আজ জেলার সকল স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বিমান ওঠানামা। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।
বাতিল হয়েছে পূর্ব নির্ধারিত বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক।






