চট্টগ্রাম থেকে: নামের পাশে ৫১৯ টেস্ট উইকেট লিখিয়ে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন কোর্টনি ওয়ালশ। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি খেলোয়াড়ি জীবনে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে গেছেন বল হাতে। গতির সঙ্গে বৈচিত্র্যের কারুকাজে ব্যাটসম্যানকে করেছেন নাস্তানাবুদ। টেস্ট, ওয়ানডে, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ মিলিয়ে ২০ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনে নিয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি উইকেট! ফাস্ট বোলিংয়ের আদ্যোপান্ত তার চেয়ে ভালো আর কে জানেন?
সেই কিংবদন্তি ওয়ালশ এখন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ। এত-শত উইকেট তোলার পেছনে টনিক হিসেবে কী কাজ করেছে, কীভাবে নিজেকে গড়েছেন ওয়ালশ? সুযোগ পেলেই সেইসব গল্প জানতে চান তাসকিন। এমন বড় মাপের একজন মানুষের কাজ থেকে বোলিংয়ের খুঁটিনাটি শিখতে পারা তার কাছে যেমন পরম সৌভাগ্যের, তেমনি কাছে পেয়েও শিখতে না পারাটা সমান ব্যর্থতার; টাইগার পেসার এভাবেই ভাবেন।
শেখার আগ্রহের যে কমতি নেই সেটি উঠে এল তাসকিনের কথাতেই, ‘কোনও সন্দেহ নেই, ওয়ালশ একজন কিংবদন্তি। ওনার থেকে আমরা সবাই যদি শিখতে না পারি, ব্যর্থতা থেকে যাবে। উনি টেস্টে পাঁচশর উপরে উইকেট নিয়েছেন। এটা আসলে স্বপ্নের থেকে বেশিকিছু। প্রতিনিয়ত প্রত্যেকটা সেশনেই আমাদের শেখাতে চেষ্টা করছেন। সুযোগ পেলে আমিও ওনার কাছে গিয়ে গল্প করি। জীবনে কীভাবে এত বেশি উইকেট পেয়েছে, কীভাবে নিজেকে গড়েছে, চেষ্টা করি জানতে। অনেককিছু নেওয়ার চেষ্টা করি। এটা আসলে আমাদের নিজে থেকেই নিতে হবে। খুবই সহযোগিতা পরায়ন তিনি।’

মাশরাফি-তাসকিন, রুবেল-মোস্তাফিজদের সঙ্গে ১০ মাস কাটিয়েছেন ওয়ালশ। থাকবেন ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এসময়ে অনেককিছু শিখে নেওয়ার ইচ্ছা তাসকিনের। শিখছেন প্রতিনিয়তই। টাইগার পেসারের কাছে প্রশ্ন ছিল ওয়ালশের শেখানোর ধরণটা আসলে কী রকম?
তাসকিন একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ওয়ালশ পেসারদের মনে ঢুকিয়েছেন ভিন্ন কিছু পদক্ষেপের রসদ। তাসকিনের ভাষায়- ‘অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা শুনলেই বুঝতাম পেসারদের স্বর্গরাজ্য। সেদিন এখন নেই। পিচ ফ্ল্যাট হচ্ছে। বোলারদের কাজটা কঠিন হয়েছে। আগের মতো চললে হবে না। অনুশীলন সেশনেও ভিন্ন কিছু করতে হবে। ভিন্ন কিছু করতে হলে ভিন্নভাবেই করতে হবে। সেটা শেখার চেষ্টা করছি।’







