এ বছর দেশে চালু হয়েছে ফোরজি বা চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজারে পর্যাপ্ত ফোরজি স্মার্টফোনের যোগান নেই। যা আছে তার বেশিরভাগের মূল্য বেশি। ফলে সব আয়ের মানুষের জন্য ফোরজি সেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এসব বিবেচনায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী দেশে তৈরি অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের প্রিমো জিএফসেভেন ফোরজি ফোনটি বাজারে এনেছে ওয়ালটন। নীল ও সোনালি এই দুই রঙে ফোনটি দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা, ব্র্যান্ড ও রিটেইল আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে। স্মার্টফোনটির দাম মাত্র ৫ হাজার ৯৯৯ টাকা। এটিকে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ফুল-ভিউ ডিসপ্লের ফোরজি ফোন বলছে ওয়ালটন।
ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন বিপণন বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান জানান, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এই ফোনটি তৈরি হয়েছে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানায়। বাংলাদেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে ক্রেতারা পাবেন বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন কেনার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়লে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেয়া হবে।
এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্রেতারা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাছাড়া, স্মার্টফোনে এক বছরের এবং ব্যাটারি ও চার্জারে ছয় মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা তো থাকছে।
ওয়ালটন আরও জানায়, জিএফসেভেন মডেলে ব্যবহৃত হয়েছে ৫ দশমিক ৩৪ ইঞ্চি নিউ জেনারেশন ১৮:৯ রেশিওর ফুল ভিউ আইপিএস ডিসপ্লে। ফলে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গেম খেলা কিংবা ভিডিও দেখা আরও সহজ হবে। ২.৫ডি কার্ভড গ্লাস সমৃদ্ধ এই ফোনে রয়েছে অলওয়েজ অন ডিসপ্লে প্রযুক্তি। ফলে স্ট্যান্ডবাই মোডে রেখেই নোটিফিকেশন, সময় কিংবা তারিখ দেখা যাবে।
ফোনটির উচ্চগতি নিশ্চিতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.২৫ গিগাহার্জের কোয়াড কোর প্রসেসর। রয়েছে ১ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র্যাম। ভিডিও ও গেমিং এর জন্য গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি-টি৭২০। প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণে রয়েছে ৮ গিগাবাইট ইন্টারন্যাল স্টোরেজ। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ৬৪ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
ফোনটির উভয় পাশে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত বিএসআই ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ক্যামেরার বিশেষ ফিচারের মধ্যে রয়েছে নরমাল মোড, প্রফেশনাল মোড, নাইট মোড, ডিজিটাল জুম, সেলফ-টাইমার, ব্যাক-টাচ ক্যাপচার, ফেস বিউটি, প্যানোরমা, এইচডিআর। ফোনের পেছনে টাচ অপশন থাকায় সেলফি বা ছবি তোলা যাবে সহজে।
অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ ভার্সন ওরিও ৮.১ (গো এডিশন) পরিচালিত স্মার্টফোনটির প্রয়োজনীয় পাওয়ার ব্যাক-আপের জন্য রয়েছে ২৭০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার লি-আয়ন ব্যাটারি।
ফোরজি সাপোর্টেড ফোনটিতে একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে দুটি সিম। কানেক্টিভিটির জন্য আছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, ল্যান হটস্পট, ওটিএ ও মাইক্রো ইউএসবি সুবিধা, জিপিএস, এ-জিপিএস নেভিগেশন, প্রোক্সিমিটি, এক্সিলারোমিটার (থ্রিডি), লাইট ইত্যাদি। মাল্টিমিডিয়া ফিচার হিসেবে আছে ফুল এইচডি ভিডিও প্লে-ব্যাক ও রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও।
উল্লেখ্য, দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা এবং ব্র্যান্ড ও রিটেইল আউটলেটে বিনা সুদে ৬ মাসের ইএমআই সুবিধায় কেনা যায় সব মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোন। একই সঙ্গে ১২ মাসের কিস্তি সুবিধায়ও থাকছে।







