টি-টুয়েন্টি সংস্করণের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বিপিএলের বাইরে আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। তাদের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে এবার। ২০১৮-১৯ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) অনুষ্ঠিত হবে দুটি সংস্করণে। আগামী ১ মার্চ ওয়ানডে দিয়ে মাঠে গড়াবে লিগ, আর শেষ হবে টি-টুয়েন্টি দিয়ে। অংশ নেবে দেশের শীর্ষ ১২টি ক্লাবই।
ডিপিএলের আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) সদস্য সচিব আলী হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন এমন তথ্য। তিনি জানান, ওয়ানডের পর টি-টুয়েন্টি লিগে সব ক্লাবের অংশগ্রহণ থাকবে; প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিপিএলের পঞ্চম আসরে একাদশে পাঁচ বিদেশি খেলায় কমে যায় দেশিদের অংশগ্রহণ। পরে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয় কেবল স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত হবে আরেকটি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তবে গত বছর সেটি করতে পারেনি বিসিবি। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া বিপিএলের ষষ্ঠ আসর চলার সময় বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও আরেকটি টি-টুয়েন্টি লিগ আয়োজনের ভাবনার কথা জানান। এবার তাই ৫০ ওভারের ক্রিকেটের ঢাকা লিগের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হচ্ছে টি-টুয়েন্টি লিগও।
ঢাকা লিগে অবশ্য দুটি সংস্করণই চালু ছিল। তবে বিপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় টি-টুয়েন্টি। সেটি আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে।

ওয়ানডের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটারদের টি-টুয়েন্টি লিগ হলে প্রকৃত পারফর্মাদের বিপিএল খেলার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করেন মোহাম্মদ শরিফ। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০টি টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডে খেলা এ পেসার বললেন, ‘এটি হলে বিপিএলে দল গঠন করতে একটি মানদণ্ড পাবেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তাতে করে যারা প্রকৃত পারফর্মার তারাই সুযোগ পাবে বিপিএলে। খেলার মানও উন্নত হবে। আশা করবো ধারাবাহিকভাবে এটি প্রতি বছরই হবে।’
লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের ক্রিকেটার শরিফ ডিপিএলে দারুণ বোলিং করলেও বিপিএলে দল পাননি। তার মতো অনেক পারফর্মারই সুযোগ পাননি বিপিএল খেলার। ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার মনে করেন, টি-টুয়েন্টি লিগ হলে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ থাকবে সবার।
বিপিএল চলার সময় শাহরিয়ার নাফীস আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি তুলেছিলেন। এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরে কথা বলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও।

রাজশাহী কিংসের হয়ে বিপিএল খেলা নাফীস বলেন, ‘আরেকটি লিগ হলে হলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের মাঝে টি-টুয়েন্টি খেলার অভ্যস্ততা চলে আসবে এবং তখন তারা বিপিএলে বিদেশিদের সঙ্গে সমানতালে লড়তে পারবে। ফরম্যাটটা ভালভাবে বুঝে এসে বিপিএলে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে পারত বলে আমি মনে করি। এতে পুরো বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি পারফরম্যান্সেরও উন্নতি হবে বলে বিশ্বাস করি।’
বাংলাদেশে ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট প্রচলন হয় ২০০৬ সালে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কয়েক মৌসুম হয়েছিল দুই ফরম্যাটে। ওয়ানডে লিগ শেষ হওয়ার পর হত টি-টুয়েন্টি। বিপিএলের বাইরে সবশেষ টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়েছে ২০১৩ সালে। বিপিএল এক বছর বন্ধ থাকায় আয়োজন করা হয়েছিল ওই টুর্নামেন্ট।







