করোনাভাইরাসের নতুন ধরন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ওমিক্রন নিয়ে সবাই একটু চিন্তিত। আমরাও সতর্ক কিন্তু আমরা প্যানিক করবো না।
বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইগামী যাত্রীদের টেস্টিং ফ্যাসিলিটিস পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সব কিছু ভালো করার চেষ্টা করছি। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। মৃত্যুর হার এক-দুইয়ে আছে। ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম খুবই গতি লাভ করেছে। টার্গেটেড পপুলেশনের ৫০ শতাংশ লোক ভ্যাকসিনেটেড হয়ে গেছে। মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- ভালো আছে। বাংলাদেশ ভালো ইমেজ বিদেশে তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের ওপর কোনো জায়গায় নিষেধাজ্ঞা নেই। সব দিক থেকে ভালো আছি।
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওমিক্রন নিয়ে সবাই একটু চিন্তিত। আমরাও সতর্ক কিন্তু আমরা প্যানিক করবো না। আমরা জানতে পেরেছি, এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়। সংক্রমণ হলেও এর লক্ষণ মৃদু। লক্ষণগুলো ডেল্টার মতো ভয়ানক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যখন আমরা সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পেয়ে যাব, আপনাদের জানিয়ে দেবো। সে পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। অনেকে ভ্যাকসিন নিতে আসে না। আমরা আহ্বান জানানো ভ্যাকসিন আপনারা নেবেন। আমাদের কাছে এখনো ৪ কোটি ভ্যাকসিন আছে। ভ্যাকসিনের কোনো অভাব নেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ২৪০ জনকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। এটা এক মাস আগের কথা, তারপরও আমরা ছাড়ছি না। সবাইকে খুঁজে বের করবো।
সরকার কঠোর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে ইরেসপন্সিবল। নিজের কথা ভাবে না, দেশের কথা ভাবে না। তারা হোটেল থেকে বের হয়ে গেছে। ঘুরা-ফেরা করেছে, বাড়িতে চলে গেছে সেটা আমরা জেনেছি। আমরা একটা কঠোর অবস্থানে যাব। পাসপোর্ট আটকে রাখবো প্রয়োজন হলে। সামরিক বাহিনীর তদারকিতে রাখবো, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ টপ সুপারভিশনে রাখবে। যে হোটেল থেকে বের হয়ে যাবে, সেই হোটেলকেও আমরা পেনালটিতে নিয়ে আসবো।
করোনার বুস্টার ডোজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বুস্টার ডোজের ঘোষণা আমরা দিয়েছি। এ জন্য পরিকল্পনা লাগবে। সেটা হতে যেটুকু সময় লাগে, তারপর আমরা কাজ শুরু করে দেবো।
বর্তমানে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এ ২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর পরিবর্তে বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিংয়ের ভবনের দোতলায় ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গায় হচ্ছে নমুনা পরীক্ষাগার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই গবেষণাগার তৈরি হয়ে গেলে বিদেশগামীদের করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষায় ভোগান্তি কমবে। এছাড়া বিশ্রামাগার, টয়লেট, খাওয়া-দাওয়ার সুবিধা রাখা হচ্ছে।”
কাজ শেষ হয়ে গেলে ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই’ নতুন পরীক্ষাগারটি তা চালু হয়ে যাবে বলে জানান জাহিদ মালেক।








