ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিজ দলের নেতাকর্মীদের সংশোধন হওয়ার জন্য সতর্ক করাকে প্রশংসা করছেন অনেকেই। ‘গডফাদার’ পরিচয় পাওয়া কোনো নেতাকে আগামী জাতীয় সংসদ নিবার্চনে মনোনয়ন দেয়া হবে না – তার এ ঘোষণাকেও স্বাগত জানানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
ওবায়দুল কাদেরকে ভালো একজন নেতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রবাসী কৃষিবিদ ও সাবেক ছাত্রনেতা নাজমুল এইচ খান।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন:
‘নেতা কাদেরকে বলে? কুত্তা আর নেতা দু’টো কিন্তু এক জিনিস নয়। নেতাদের বিশেষ বিশেষ গুণ থাকতে হয়। ভোটে জিতলে বা ক্ষমতায় থাকলেই যে সে নেতা হয়ে গেল – এমনও কোনো কথা নেই। ছোটকাল থেকেই শুনেছি, অনেক নেতা, চেয়ারম্যান, এমপিকে মানুষ কুত্তার সাথে তুলনা করছে। ভয়ে ভয়ে, চুপিচুপি নিজেদের মধ্যে তাদের অনেক অপকর্ম নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে মানুষকে হত্যা, জোর পূর্বক নারীর সতীত্বহানি, ব্যাভিচার, জুয়াড়ি, মদখোর, মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন – এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যা আলোচনায় উঠে আসেনি। অথচ, কোনো না কোনোভাবে ভোটে জিতে অথবা এলাকায় ক্ষমতার দাপটে দেশের, জেলার, উপজেলার অথবা এলাকার ছোট কিংবা বড় নেতা হয়ে বসে গেছে।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথা থেকে বুঝতে পারলাম, তিনিও সেটা জানেন। তা না হলে উনি নেতাদের, কর্মীদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে এমন কথা কেনো বলবেন? আর, তিনি যেহেতু বলেছেন – এটা সহজেই বুঝতে পারি তিনি নিজে অন্যদের মতো একই চরিত্রের লোক নন।
তিনি বর্তমান ক্ষমতাশীল দলের সাধারণ সম্পাদক, দলের নীতি-নির্ধারক, দেশের ভাল-মন্দ ক্রিয়াকর্মের একজন অন্যতম সাক্ষী। যদি এমন হয় দলের প্রধান প্রধান ব্যক্তিদের অথবা দলের প্রধান নেত্রীর কার্যকলাপের কারণেই তিনি মনে করছেন যে, ক্ষমতা হারালে কারও রক্ষা থাকবে না – তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। আমার তো এমন মনে হচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে, তার এই হুঁশিয়ারির কারণ এটাই যে অপরাধ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। উপর থেকে নিচে। তিনি অপরাধ থেকে সবাইকেই বেড়িয়ে আসতে বলেছেন বলেই আমার মনে হয়। কারণ, তাকে আমি অনেকবারই নেতার মতো কথা বলতে শুনেছি। আজ যদি তিনিই দেশের প্রধান হতেন – আমার ধারণা, দেশের রাজনীতির অনেক ভাল দিকও আমরা দেখতে পেতাম।
শুধু কি ওনার দলের লোকেরাই খারাপ? ওনার দল ছাড়া অন্য দলে কি কোনো কুত্তা নেই? কুত্তায় কুত্তায় যখন দেশটা ভরে গেছে তখন আমি বিশ্বাস করি সব দলেই অসংখ্য কুত্তার জন্ম হয়েছে। এসব কুত্তাদের কারণেই অনাচার-অবিচার ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। মানুষ আর দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারছে না। বরং, হতাশায় ডুবে মরছে। অবস্থার পরিবর্তন চাইছে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে। এই মানুষরা পালিয়ে যেতে চায় নিজেদের মান-সম্মান বাঁচাতে অথবা এরা আইনের শাসনের দেশে বেঁচে থাকতে চায়। চুরি করে তাড়া খাবার ভয় নিয়ে সবাই কিন্তু দেশ ছেড়ে পালায় না।
ওবায়দুল কাদের একটি দলের নেতা হলেও তিনি আমাদের দেশেরও নেতা। তিনি যদি ভাল কিছু চান তাহলে সেটা সবার জন্যই ভাল। সব দলেই ভাল নেতা আছে, মন্দ নেতা আছে। কিছু আছে একেবারে কুত্তা চরিত্রের। এদের কারণে দেশটা অথবা পুরো জাতি যেন অভিশপ্ত না হয় – সেটাই কামনা করি। আশা করি, এক সময় সবাই সচেতন হয়ে একটা সুন্দর দেশ ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবারই ভূমিকা থাকবে।
আল্লাহ্, আমাদের ক্ষমা করে আপনার রহমত দান করুন।’








