তাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদটা সবসময় উঁচুতেই থাকে। চালিয়ে খেলতে পারেন, ঝড় তোলার এই তকমাটাই ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে জায়গা করে দিয়েছে। মাঝে মধ্যে ঝলকও দেখিয়েছেন। কিন্তু সাব্বির রহমান ঠিক যেন প্রত্যাশার কুড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে পারছেন না। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে লম্বা বাজে সময়ের স্মৃতিটা টাটকাই। টাইগার তারকা জানালেন, রানখরার ওই স্মৃতিগুলো ভেতরে ভেতরে তাকেও বেশ খোঁচা দেয়!
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে মনে হচ্ছিল রানেই আছেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যেয়ে হঠাত খেই হারিয়ে ফেললেন। অনেক কথা হয়েছে রানখরার সময়গুলো নিয়ে। সাব্বিরের কানেও গেছে আলোচনার জোয়ার। তবে ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সুদূরেই চোখ রাখছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
বৃহস্পতিবার বিসিবিতে ফিটনেসের জন্য ঘাম ঝরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে গুটিকতক ম্যাচ দিয়ে তাকে বিচার না করার কথাও বললেন, ‘আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার মাত্র তিন বছরের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিন-চারটা ম্যাচে ঠিকমত খেলতে পারিনি। তার আগে দেশে, বাইরে বা বিশ্বকাপে মনে হয় ভালোই খেলেছি। ওই কয়েকটা ম্যাচ দিয়ে মনে হয় না কোন খেলোয়াড়কে যাচাই-বাছাই করা যায়। এখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি, চেষ্টা করছি কিভাবে ভুলগুলো শুধরে ওঠা যায়।’
জাতীয় দলের আগামী মিশন সাদা পোশাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের ঘরোয়া সিরিজ। সাব্বির মুখিয়ে আছেন খেলার জন্য। কিছু রান করার তাড়নায়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যর্থতাকে আড়ালে ঠেলে দিতে দ্রুতই দারুণ কিছু করে দেখাতে চান। নয়তো ওই ব্যর্থতা যে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তাকে।
‘টেস্ট ম্যাচ বা অন্যকিছু। আমি আসলে একটা ম্যাচ খেলার জন্যই খুব মরিয়া হয়ে আছি। শেষ তিন-চারটা ম্যাচে ভাল করতে পারিনি। ওই স্মৃতি ভেতরে ভেতরে খোঁচা দেয়। সামনে টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টুয়েন্টি- যে সিরিজই হোক; সেখানে ভালো খেলে আগেরটা ভুলতে পারব।’
একদিকে ব্যাটে রান নেই। আরেকদিকে রঙিন পোশাকের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে সাদা পোশাকে নামবেন। ওয়ানডেতে একরকম, টেস্টে নিশ্চয় অন্যরকম চ্যালেঞ্জ। সাব্বির বিষয়টাকে ওভাবে দেখেন না। কারণটাও খোলাসা করলেন, ‘আসলে তিনটা ফরম্যাটেই চ্যালেঞ্জ। কোন একটাকে অন্যরকম মনে করলে সেটা আবার বেশি চ্যালেঞ্জ মনে হবে। লাল বল বা সাদা বল, নিজের খেলাটা যদি খেলি, যদি বল বাছাই করে করে খেলতে পারি তাহলে সহজ হবে। সেরাটাই দিতে পারব।’
সেরাটা দেয়ার জন্য ফিটনেস ক্যাম্পকে পাখির চোখ করছেন সাব্বির। জানালেন গতবারের লম্বা ক্যাম্পটা যেমন কাজে দিয়েছিল, এবারেরটাও তেমনই হবে, ‘গতবছর আমাদের একটা ফিটনেস টেস্ট হয়েছিল, যা আমাদের ১০-১১ মাস ফিট রাখে। প্রতিবছরই এক মাসের জন্য একটা ক্যাম্প হয়। এটা প্রায় একবছর, পরবর্তী ৫-৬ সিরিজের জন্য আমাদের কাজে দেয়। এই ক্যাম্পটি আমদের জন্য বেশ কার্যকরী।’
কার্যটা সেরে করীতে রূপান্তরের জন্য ফিট থাকা জরুরী। সাব্বির আগে ফিট থাকতে ঘাম ঝরাচ্ছেন। পরে সেটা ব্যাট-বলের সাফল্যে রূপান্তর করার প্রতিজ্ঞা আঁটছেন। করতে পারলে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের যে তকমাটা আছে তা বহাল থাকবে। সাব্বির অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাকে নিয়ে সেভাবে ভাবেনই না, ‘আসলে ওরকম কিছু না, ক্রিকেটে চাপ এমন একটা ব্যাপার সেটা নিলেই এগোতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কোন বিষয় না। কোচ বা দল আমাকে যেভাবে খেলতে বলবে আমি সেভাবেই খেলব। খেলার ধরণ বদলাবো না।’








