অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওআইসি সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্মেলন শুরু হয়েছে কাজাখস্তানের রাজধানীতে। বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের ৮০জন প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধান ও মনোনীত প্রতিনিধিরা আছেন। সম্মেলনটি বিজ্ঞানভিত্তিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচিত হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে আগস্টে শুরু হওয়া সহিংসতায় ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় বাংদোশে ঢুকতে বাধ্য হওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতিতে ওআইসি সম্মেলনে আলোচনা বাংলাদেশের জন্য খুবই ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ওই সম্মেলনে বলেছেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর বারবার অত্যাচারের ফলে তাদের অস্তিত্ব যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি বাংলাদেশকে বিপুল সংখ্যক অসহায় রোহিঙ্গার বোঝা বহনের মতো মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই মানবিক বিপর্যয়ে সোচ্চার বিভিন্ন মুসলিম দেশ। ওআইসি’র মানবাধিকার বিষয়ক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইপিএইচআরসি গত ৫ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সেইসঙ্গে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আক্রান্ত স্থানে সরেজমিন তদন্ত দাবি করে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য জোরদারে আহ্বানও জানিয়েছে ওআইসি দেশগুলোর সদস্যদের। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাকে বিষয়টিতে নজর দিতে বলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ওআইসি সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রপতির জোরালো অবস্থানের মাধ্যমে ইতিবাচক ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আসবে বলে আমাদের আশাবাদ। এ ধরণের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরও জোরালো অবস্থান নেয়া দরকার। দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল এই পরিস্থিতি সমাধানে দেশের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মহল তাদের সর্বশক্তি ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।







