১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। বিশেষ এই দিন স্মরণে ৩টি কবিতা লিখেছেন পুলিশ সুপার ও গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদ:
বঙ্গবন্ধু
তুমি বিহনে
শোকবিধূর বিদগ্ধ প্রাণে
অশ্রু ঝরে ঘরে ঘরে,
দেশের জন্য সকলি করে দান
তার জন্য মায়ায় জাগে পরান ।সাধ্য কার এত অল্প দিনে
রক্তের দামে স্বাধীনতা কিনে,
এসেছে সেই ক্রান্তিকাল
বুনন করেছে মুক্তির স্বপ্নজাল।তুমিই তোমার তুল্য
নির্লোভ খাঁটি অমূল্য,
তোমার মত এমন আর কেউ
ছড়াবে না উঠাবে না আর
তুমুল উত্তাল ঢেউ।গগন মণ্ডলে হেনকালে
তোমার মত আর কেউ
জনম জনমে
জন্মাবেনা ইহকালে।সেই নদীর নাম রেসকোর্স ময়দান
ইতিহাস হয়েছে
মুক্তির ঢালে দিয়ে শান
লাখো মানুষের রেসকোর্স ময়দান,
তীব্র খরস্রোতে বইছে
ঢল নেমেছে ভেঙ্গে বান,
এ নদীর নাম রেসকোর্স ময়দান।মুক্তিকামী মানুষের বহমানতা
এ নদীর নাব্য
এখানে আসবেন রাজনীতির অমর কবি
শোনাবেন মহাকাব্য।দুয়ারে দুয়ারে
জোয়ারে জোয়ারে
উত্তাল ঢেউ গর্জে,
বিশ্ব ঐতিহ্যের সেই সাতই মার্চে,
এ নদীর কলতান
এ নদীর ঐকতান
প্রমত্তা নদী রেসকোর্স ময়দান।উপস্থিত সকলে অধিষ্ঠিত আসনে
নিমগ্ন অমরত্বের ভাষণে,
ইতিহাস নাড়া দেয় সেই ধ্বনি
মানুষের ঢল অদ্ভুত ঐকতান
গড়ে মুক্তির দর্শন ,
কালজয়ী এক সিম্ফনি
রাজনীতির কবি উঁচিয়ে তর্জনী ।জ্বলে উঠে শিখা লেলিহান
সেই রেসকোর্স ময়দান
এ নদী উত্তাল অবিরাম
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ।রক্তের দামেই স্বাধীনতা কিনব
রক্ত যখন দিয়েছি আরো রক্ত দিব,
যার যা কিছু আছে অবশিষ্ট
ঝাঁপিয়ে পড় তাই দিয়ে হয়ে আদিষ্ট ।অমরত্বের কবি বলেছেন
মহাকাব্যের বানী,
গুণমণি তিনি সকলেই জানি,
রাজনীতির কবি
তোমার মধুর বচনে
টেনে আনে যুগ থেকে যুগে সন্মুখ পানে
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্বাধিকারের টানে ।নতুন প্রজন্মের কাছে রাজনীতির কবি
আজকের দিনের স্কুলের বইয়ের পাতা
ক্লাসের পাঠে ভরছে খাতা,
কড়া চোখ শাসায় শীতল উষ্ণ
শিক্ষকের প্রশ্ন-
ওহে বালক,
বল, কে বাংলাদেশের জাতির জনক ?
একেবারে স্পষ্ট উত্তর
নেই এতটুকু নড়বড়‘’উত্তাল ঢেউ গর্জে
বিশ্ব ঐতিহ্যের সেই সাতই মার্চে’’
মুক্তির সিম্ফনি
উঁচিয়ে তর্জনী,জন্মদাতা বাংলাদেশ জন্মের কেন্দ্রবিন্দু
তিনি শেখ মুজিবুর রহমান তিনি বঙ্গবন্ধু ।
পঞ্চাশ বছরে তোমার উপাধি
তোমার চরণ যুগল ধরি
অভিনন্দিত সম্মানিত করি,
পঞ্চাশে মহীরুহ বঙ্গবন্ধু
বিন্দু থেকে সিন্ধু।








