গত এপ্রিল-মে মাসে জোরালো হয়ে ওঠা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেমে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা এবং সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে। ২৪ মে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়ে ঘরে ফিরিয়েছিলেন।
ওবায়দুল কাদের সেসময় বলেছিলেন: ‘এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, নারী, জেলা কোটা রয়েছে। এটাকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে সমাধানে আসা দুরূহ ব্যাপার। তবে, আমি আশ্বস্ত করছি, সরকার এ সমস্যা সমাধানের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’ প্রজ্ঞাপন জারি করা নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অবিশ্বাস থাকার কারণে ওবায়দুল কাদের আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের তরুণদের কাছ থেকে এ ধরনের ধৈর্যচ্যুতি আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে এখানে যেন কোনো অপরাজনীতি প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে আন্দোলনকারীদেরই খেয়াল রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও রাজনৈতিক নেতাদের ওই আশ্বাসের ফলে পবিত্র রমজান মাসের শুরুর দিকে আন্দোলন স্থগিত করে। এরপরে ১ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কোনো সরকারি ঘোষণা না আসায় আবার পথে নেমেছে আন্দোলনকারীরা। শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই আন্দোলন দমন করতে এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনের আগেই শনিবার তাদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্দোলনকারীরা। এরপরপরই আন্দোলনকারী শীর্ষ ছাত্রনেতাদের কয়েকজন গ্রেফতারও হয়।
বিষয়টি গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আজ (২ জুলাই) আন্দোলনরত এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে এবং সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শহীদ মিনার এলাকায় এধরনের ঘটনা নিন্দার ও উদ্বেগজনক।
যে বিষয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ঘোষণা রয়েছে এবং শীর্ষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে, সেখানে ছাত্রলীগের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহ তৈরি করবে বলে আমাদের মনে হয়েছে। দেশের শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের সংহিসতা মোটেও কাম্য নয়, বিষয়টি সরকার ও প্রশাসনের প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।








