চলতি মৌসুমে রেকর্ড অর্থে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দলে নেয় জুভেন্টাস। নতুন দলে প্রথম থেকেই নিজের সেরাটা দিচ্ছেন তিনি। আরও একবার প্রমাণ করলেন কেনো তিনি সুপারস্টার।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচের দ্বিতীয় পর্বে রোনালদোর হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। যার ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় জুভরা। দল আর নিজের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের রাতকে রোনালদো নাম দিয়েছেন ‘ম্যাজিক নাইট’।
‘জাদু’র রাতে জাদু দেখানোর পর রোনালদো বলেছেন, এ জন্যই জুভেন্টাস তাকে দলে নিয়েছে। ম্যাচ শেষে সিআর সেভেন বলেন, ‘অসাধারণ রাতগুলোর মধ্যে এটা অন্যতম। শুধু আমার গোলের জন্য নয়, বরং দলের জন্যও। সম্ভবত এই কারণেই জুভেন্টাস আমাকে সাইন করিয়েছে। আমি শুধু নিজের কাজটা করেছি, বাকিটা রাতের জাদু। আমাদের কাজ এখনো কিছুই শেষ হয়নি, তবে আমরা গর্বিত।’
রোনালদো সতীর্থ লিওনার্দো বোনুচ্চি বলেছেন, প্রথম লেগের পারফরম্যান্সের পর যে সমালোচনা হয়েছে সেটাই তাঁতিয়েছে জুভদের। ইতালিয়ান মিডফিল্ডারের কথায়, ‘প্রথম লেগের পর অনেক কথা বলা হয়েছে। কেউ কেউ তো আমাদের ছিটকে যাওয়া উপভোগ করা শুরু করেছিলেন। কিন্তু আমরা মাঠেই জবাব দিয়েছি, জুভরা সবসময়ই জবাবটা মাঠে দেয়।’
ম্যাচ চলাকালে বারবার গ্যালারির দর্শকদের তাতাতে দেখা গেছে রোনালদোকে। দর্শকরাও নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। রোনালদোর ছেলে-বোন-বান্ধবীসহ দলের জন্য বিরামহীন গলা ফাটাতে দেখা গেছে ক্লাব মালিক দম্পতিকে।
বোনুচ্চি বলছেন, দলের ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচটা খেলেছেন দর্শকরাও। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে সবাই এক কথাই বলছে, তারা (দর্শক) আমাদের ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করে। আর এটা যখন ঘটে, তখন আপনি সামর্থ্যেরও বাড়তি দিতে চাইবেন। অনেক লোকজন ভুলটা বেশি দেখে, তবে দর্শকরা আমাদের খেলোয়াড় ও অভিজ্ঞ কোচের উপর ভরসা রেখেছেন। আমরা তাদের ভরসার প্রতিদান দিতে পেরেছি।’
কোচ ম্যাস্সিমিলিয়ানো অ্যাল্লেগ্রি চিন্তায় ছিলেন, প্রথম লেগ হারার পর তার খেলোয়াড়রা ধৈর্য হারিয়ে ফেলে কিনা। কিন্তু তারা সেই চিন্তার ছিটেফোঁটাও ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ম্যাচ শেষে তুরিনোদের বস বলেছেন, ‘ছেলেরা ম্যাচটা সম্ভব্য সর্বোচ্চভাবে ধরতে পেরেছিল এবং দুর্দান্ত গতি দিয়ে মাঠে সেটা প্রয়োগ করেছে। প্রথম লেগেও আমি এমন খেলাটাই চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমি কিছু পরিবর্তনও করেছিলাম, সঠিকভাবে কাজে দেয়নি।’








