নীরব ঘাতক বিষণ্ণতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপ মতে বাংলাদেশে শতকরা ৪.৬ শতাংশ নারী-পুরুষ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। আবেগজনিত এই মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। তাই বিষণ্ণতার ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক গান লিখেছেন বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ। ‘বিষণ্ণতা হলে কারও সাথে বলো কথা/ ভাগ করে নিও যত দুঃখ-ব্যথা’—গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু। গানটির প্রকাশনা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে চ্যানেল আই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এ দিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর সংস্থাটি এমন একটি বিষয় বেছে নেয়, যা সারা পৃথিবীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেছে নিয়েছে ‘বিষণ্ণতা’কে। কোনালের গানটি এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের থিম সং। এই থিম সংয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোখসানা কাদের, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)–এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডা. এডউইন সালভাদর।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ডেপুটি চীফ মো. আব্দুস সালাম। এরপর অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রী জনাব মোহাম্মাদ নাসিম। তারপর থিম সংয়ের ভিডিওটি প্রদর্শন করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বলেন, ‘বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ সমাজের জন্য ভালো কাজ করছেন। গানের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পারল কীভাবে বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা যায়। ৭ এপ্রিল সারা দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘পৃথিবীতে খুব কম দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। গান ছিল যুদ্ধের সময় অস্ত্রের মতো। যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জাগাত গান। ডা. বায়েজিদ খুরশীদ রিয়াজ বিষয়টি উপলব্ধি করে একাধিক গান লিখেছেন। তার লেখা স্বাস্থ্যবিষয়ক গানগুলো দেশের জন্য বড় শক্তি। চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে বিষণ্ণতার গান পৌঁছে দেওয়া হবে।’
কুয়েতে থাকার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি কোনাল। সোমবার রাতে ফেসবুকে যোগাযোগ হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘গত সপ্তাহে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছি। খুবই ভালো লেগেছে। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে সবাইকে সচেতন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। আর আমি সব সময়ই এ ধরনের কাজ করতে পছন্দ করি। আমার গানের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকের কাছে একটা বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে, এটা ভাবতেই তো দারুণ লাগছে। বিষন্নতা নিয়ে এর আগে আমি বাংলায় কোনো গান শুনিনি। আমার তো মনে, এবারই প্রথম বিষন্নতা নিয়ে কোনো গান তৈরি হয়েছে। আমার কয়েকজন বন্ধুকে দেখেছি বিষণ্ণতায় ভুগতে। তাদের জন্য খুব খারাপ লাগে। আমাকে এই গানটি গাওয়ার জন্য মনোনীত করায় বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজকে ধন্যবাদ। তিনি কিন্তু গানটা চমৎকার লিখেছেন। আর মকসুদ জামিল মিন্টুর সঙ্গে কাজ করা মানে অনেক কিছু শেখা। পুরো ব্যাপারটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি।’
স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক এই গানের মিউজিক ভিডিওর নির্দেশনা দিয়েছেন মেহেদী হাসান বাবু এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন মেহ্রাজ হক তুষার। স্বাস্থ্য–পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে গানটি।
ছবি : এস এম নাসির








