লিগপর্বের খেলা শেষ। মঙ্গলবার নকআউট তথা সেমিফাইনালের লড়াই মাঠে গড়াবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকির। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রথম সেমিতে মুখোমুখি সাউথ কোরিয়া ও পাকিস্তান। সন্ধ্যা ৬টায় টপ ফেভারিট ভারতের প্রতিপক্ষ জাপান।
টেবিলে সবার চেয়ে এগিয়ে সেরা চারে এসেছে ভারত, পয়েন্ট ১০। সাউথ কোরিয়ার পয়েন্ট ৬, তারা টেবিলের দুইয়ে থেকে লিগপর্ব শেষ করেছে। সমান ৫ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পাকিস্তান তৃতীয় এবং জাপান চতুর্থ হয়েছে। সব ম্যাচ হারা বাংলাদেশ অবধারিতভাবেই পয়েন্টের দেখা পায়নি।
প্রথম সেমিফাইনালে সাউথ কোরিয়া ও পাকিস্তানের খেলাতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। গত শনিবার লিগপর্বে এ দুদল ৩-৩ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে।
বিশ্ব হকি র্যাঙ্কিংয়ে কোরিয়া ১৬তম স্থানে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে তিন নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা ভারতকে ২-২ গোলে রুখে তারা সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে। পরের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে রোমাঞ্চ ছড়ানো লড়াইয়ে ৩-৩ গোলে ড্র করে।
ছন্দে থাকা কোরিয়ার সামনে দুর্দান্ত এক লড়াইয়ের গল্প লিখেছিল বাংলাদেশ। ৩-২ গোলে হারলেও সেদিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে মাঠ দাপিয়েছিল আশরাফুল ইসলামের দল।
পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচের মতো ড্র করে বসে কোরিয়া, স্কোরলাইন ছিল ৩-৩।
পাকিস্তান র্যাঙ্কিংয়ে ১৮ নম্বরে থাকলেও লিগ ম্যাচে কোরিয়াই ফেভারিট ছিল। ২০১৮ সালের পর পাকিস্তান আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। শাহবাজ-সোহেল আব্বাসদের সোনালিযুগ পেরিয়ে এখন হকির ময়দানে কঠিন সময় পার করতে থাকা পাকিস্তান প্রথম ম্যাচেই খেয়েছিল হোঁচট, জাপানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে একপেশে ম্যাচে ৩-১ গোলে হারার পর কোরিয়ার বিপক্ষে তারা পেরে উঠবে না বলেই ধরে নেয়া হয়েছিল। বাস্তবে তেমন হয়নি, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দেখা মেলে। গোল পাল্টা গোলের ম্যাচটি ৩-৩ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।
শেষ ম্যাচে পাকিস্তান ৬-২ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমির টিকেটই শুধু কাটেনি, জাপানের সমান পাঁচ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ায় তারা শেষ চারের লড়াইয়ে ভারতকে এড়াতে পেরেছে।
‘দুই কিংবা তিন নম্বরে থেকে আসর শেষ করতে চাই। চ্যাম্পিয়ন হলে তো কথাই নেই।’ -পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচ খেলার পর সাউথ কোরিয়ার অধিনায়ক জাংজুন লি এমন বলেছেন। যদিও ছয়-সাতজন নতুন খেলোয়াড় নিয়ে এসে নতুন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাওয়া পাকিস্তান ছাড় দেবে না।
অন্যদিকে, ভারত ও জাপানের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল একপেশে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। লিগ ম্যাচে টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী টিম ইন্ডিয়া জাপানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। আগে তারা প্রথম ম্যাচে সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে। বাংলাদেশকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে পাত্তা না দিয়ে ৩-১ গোলে ধরাশায়ী করে টুর্নামেন্টজুড়ে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে।
জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা সুরাজ কারকেরা বলেছিলেন, ‘শুধুমাত্র সেমিফাইনাল নয়, আমরা সব ম্যাচকেই গুরুত্বপূর্ণ ভেবে মাঠে নামছি। ভালো প্রস্তুতি নিয়েই খেলতে নামব। কোনো দলকেই আমরা সহজ ভাবছি না। সব দলই প্রস্তুত হয়ে আছে। কেউ সহজ প্রতিপক্ষ নয়। যারাই আমাদের প্রতিপক্ষ হোক, তাদের সহজ ভাবা ঠিক হবে না।’
সুরাজ কারকেরার কথাতে বিনয় ঝরলেও বুঝতে বাকি থাকে না যে ভারতের লক্ষ্য কী। প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে তারা নিজেদের সেরাটা নিয়ে শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর।







