চোখধাঁধানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল জাকার্তা-পালেমবাং এশিয়ান গেমস। ১৮তম এশিয়ান গেমসের জমকালো আয়োজন হয় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়। এবারের আসরে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন ভারোত্তলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে নানা আয়োজনও রাখা হয়। দেশটির বিনোদন জগতের তারকাদের পরিবেশনা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন দর্শকরা।
আসরে ৮৬ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী সহ ১৪টি ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১৭ জন অ্যাথলিট অংশ নিচ্ছেন। যেকোনো মেগা ইভেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম লাল সবুজের পতাকা হাতে আবির্ভূত হন ভারোত্তলক মাবিয়া।
জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা ছিল ঐতিহাসিকও। চিরশত্রু দুই প্রতিবেশি দেশ-নর্থ ও সাউথ কোরিয়া সব দূরত্ব ঘুচিয়ে একসঙ্গে একই পতাকার তলায় হাঁটে এদিন। যা সব দিক থেকে ঐতিহাসিক। দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানীতে ছিল। শেষ পর্যন্ত খেলার মাঠ ঘুচিয়ে দিল দুই কোরিয়ার দূরত্ব।
শীতকালীন অলিম্পিক্স থেকে দুই কোরিয়ার মিলনের যে প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিল, সেটা যেন শনিবার ইন্দোনেশিয়ায় পূর্ণ হল। দুই কোরিয়া একসঙ্গে মিলে অংশ নিচ্ছে মহিলাদের বাস্কেটবল, কেনোয়িং ও রোয়িংয়ে।
৪৫টি দেশের ১৭হাজার অ্যাথলিট এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে হাঁটেন ৬ হাজার অ্যাথলিট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ইন্দোনেশিয়া খরচ করে ৩৫ মিলিয়ন ডলার। সমাপ্তি অনুষ্ঠানের জন্য তোলা আছে আরো ২০ মিলিয়ন। জিবিকের মূল মঞ্চ ছিল ১২০ মিটার লম্বা, ৩০ মিটার প্রস্থ আর ২৬ মিটার উঁচু।
ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী দ্বীপ, ফুল আর পাহাড়ের প্রতীকী চিত্র দিয়ে মায়াময় এক পরিবেশ তৈরি করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরমাররা ফুটিয়ে তোলেন ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। দ্বীপ, পাহাড়, সমুদ্র, আদিবাসীদের জীবন, সংস্কৃতি—সব এমনভাবে উঠে আসে যেন মনে হয় পুরো দেশের ইতিহাস-ভুগোলটা মাঠে ধরা দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত গায়িকা আনগুন, রাইসা, তুলুস, কনডোলোগিটরা। সঙ্গীচ পরিচালক আডি এমএস ও রোনাল্ড ইউনার্ডি মঞ্চ মাতান।








