দলবদল ইস্যুতে পারিশ্রমিকের রেকর্ড গড়বেন কাইলিয়ান এমবাপে, আগে থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। হলও সেটাই। সব জল্পনার শেষে পিএসজিতেই চুক্তি বাড়িয়েছেন ফরাসি তারকা। তাতে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার বনে গেছেন ২৩ বর্ষী ফরোয়ার্ড। এটিকে আবার ‘ফুটবলের অপমান’ বলছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।
ফরাসি গণমাধ্যমে খবর, পিএসজিতে পাওয়া বর্তমান বেতনের দ্বিগুণ পারিশ্রমিক পাবেন এমবাপে। নতুন চুক্তিতে মাসে ৫ মিলিয়ন ডলার বেতন প্যাকেজ ছাড়াও সাইন-অন ফি হিসেবে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রস্তাব করেছে পিএসজি। থাকছে গোলের জন্য বোনাস, ট্রফি জয়ে আর্থিক সম্মান ও ছবি তোলার সত্ত্ব। যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের স্বীকৃতি দেবে।
রোনালদো-নেইমার-মেসি চলে যাওয়ার পর থেকেই দর্শক আগ্রহে ভাটা পড়েছে লা লিগায়। জৌলুস ফেরাতে সময়ের আলোচিত তারকা এমবাপেকে বড্ড প্রয়োজন ছিল লা লিগার। এমবাপেকে টানতে কাড়িকাড়ি অর্থ ঢালতেও প্রস্তুত ছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। লস ব্লাঙ্কোসে বরণডালা সাজিয়ে অপেক্ষায় ছিল সমর্থকরা। সেসবের তোয়াক্কা না করে শেষমেশ প্যারিসেই থেকে গেলেন এমবাপে। আর সবার মতো এটি কষ্ট দিয়েছে লা লিগা সভাপতিকেও।
‘এটি কলঙ্কজনক যে পিএসজির মতো ক্লাব, যারা গত মৌসুমে ২২০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি লোকসানের কথা জানিয়েছিল। আগের মৌসুমে ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি লোকসানের কথা বলে এখন ৬০০ মিলিয়নের অধিক পারিশ্রমিকে এমবাপেকে দলে রাখছে। এধরনের চুক্তি ইউরোপীয় ফুটবলের অর্থনৈতিক স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শুধুমাত্র ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা নয়, আমাদের ঘরোয়া লিগও এখন ঝুঁকির মুখে। এই চুক্তি ফুটবলের জন্য অপমান।’
২০১৭ সালে মোনাকো থেকে প্যারিসে যোগ দেয়ার পর একের পর এক রেকর্ড গড়ে চারটি শিরোপা জিতিয়েছেন দলকে। এমবাপে সদ্যগত মৌসুমেও ছিলেন দারুণ ছন্দে। আসরে ২৮ গোল ছাড়াও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সংখ্যাটা ৩৫। যা দলবদলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিল তাকে। সবকিছুর পর বিশ্বকাপজয়ীকে প্যারিসে রাখতে পেরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি।
‘যেদিন থেকে এমবাপে আমাদের পরিবারে যোগ দিয়েছে, সে প্রতিটি পর্যায়ে বছরের পর বছর ধরে দ্যুতি ছড়িয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। পিএসজিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে, আগামীতে সে মাঠে ও মাঠের বাইরে আমাদের ক্লাবের ভবিষ্যতের মূল হাতিয়ার হবে। আমি গর্বিত এবং খুব খুশি। আমাদের সবচেয়ে বড় অধ্যায় সামনে রয়েছে।’







