বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে আগেই। জিম্বাবুয়ের চেয়ে নেট রানরেটে অনেক এগিয়ে থাকায় শ্রীলঙ্কারও তেমন দুশ্চিন্তা ছিল না! বাংলাদেশের কাছে শেষ ম্যাচে খুব বড় ব্যবধানে না হারলে তাদের ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়ার সম্ভাবনা ছিল কমই। বৃহস্পতিবারের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা এক অর্থে ছিল তাই ফাইনালের পোশাকি মহড়া। শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বুঝে নেয়ার। যে পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ মাশরাফীর দল।
ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন জয় তুলে আত্মবিশ্বাসের বেলুন ফুলেফেঁপেই উঠেছিল বাংলাদেশের। ৮২ রানে অলআউট হওয়ায় সেই বেলুন ফুটো’র দশা! ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় উঠে গেল লঙ্কানরা। অথচ কী বাজেভাবেই না শুরু করেছিল তারা। প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে হার, পরের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। তারপর আবার চোটজর্জর হয়ে পড়েছে স্কোয়াড। এসবের পরও যে ফেরা যায় হাথুরুর দল সেটিই করে দেখাল বাংলাদেশকে ৮২ রানে অলআউট করে। পরে ১০ উইকেটের জয় তুলে। ব্যাটে-বলে লঙ্কানরা যেভাবে আগ্রাসন দেখিয়েছে, শিরোপার দাবিদারও এখন তারাও!
টাইগার ব্যাটসম্যানরা বিপদের সময় ধৈর্যচ্যুত হয়ে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে। ১৬ রানে যখন তিন উইকেট নেই, তখন সুযোগ এল মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির, নাসিরদের সামনে। মিডলঅর্ডারের ত্রয়ীর কেউ উইকেটে পড়ে থাকলে ভাল স্কোরই পেত স্বাগতিকরা। তাহলে ফাইনালের আগে কেন অযথা চাপ নিতে গিয়ে গুলিয়ে ফেললেন ব্যাটসম্যানরা? এমন ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা কেন চাপ নিয়ে নিলেন সেটি এখন আলোচনার খোরাক।
মাশরাফীর আক্ষেপ সেখানে। অধিনায়ক বললেন, ‘রিয়াদ যখন আউট হল তখন মনে হচ্ছিল ২০০ রান করার সামর্থ্য আছে। মুশফিক আর রুম্মান তখন ব্যাট করছিল। তাদের দুজনেরই বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে। একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন ৭-৮ উইকেট পড়ে যাচ্ছে, তখন বুঝতে পারছিলাম কতই বা আর করা যাবে। ভাল ইনিংস খেললে ১৩০-১৪০ বা ১৫০। এই রান করে এমন উইকেটে ম্যাচ আনা খুব কঠিন হতো। ২০০-২২০ করলে ফাইট করা যেত। সত্যি কথা বললে, চাইছিলাম ম্যাচটা হারলেও শেষদিকের ব্যাটসম্যানরা রান করুক। যাতে ফাইনালে আত্মবিশ্বাসটা থাকে।’

তিন ম্যাচে বড় জয়ই কী তবে অতি-আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল টাইগার দলকে? মাশরাফীর উত্তর, ‘সত্যি কথা বলতে কি কাল রাতে বলেন না আজকেও, সবাই যখন একসঙ্গে ছিলাম, যখন মিটিং হয়েছে, কারও ভেতর এমন দেখিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন থাকার (অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী) সুযোগ ছিল না, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো না-ই। মনে হয় এটা বলাই ঠিক যে আসলেই আমরা খুবই বাজে ক্রিকেট খেলেছি। আবার এটাও বলতে পারি যে, একটা বাজে দিন গিয়েছে। তবে আমি বলব বাজে ক্রিকেট খেলেছি।’
বাংলাদেশের বাজে খেলার ম্যাচে সামনের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘এভাবেও ফেরা যায়’ তকমা পাওয়া সফরকারী দল। সামনে কেবল একটা ম্যাচ। নতুন বছরের প্রথম সিরিজে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার সুযোগও।







