বছর দুয়েক আগের কথা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরে-বাইরের মাঠে বড় ব্যবধানেই পিছিয়ে থাকত বাংলাদেশ। দুএকটি সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়লেও খুব বেশি জয়ের দেখা মেলেনি। ক্রিকেটের সেদিন পাল্টেছে! টাইগাররা এখন শুধু জেতেই না, প্রতিটি ম্যাচেই চোখে-চোখ রেখে লড়ে। সদ্য সমাপ্ত সিরিজেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু নিজেদের মাঠে লঙ্কানরা চেয়েছিল অতীত সাফল্যের পুনরাবৃত্তি। তবে তারা এমন বাংলাদেশের দেখা পেয়েছে যা কল্পনাও করেনি। অশাঙ্ক গুরুসিনহার কথাতে সেটাই বেরিয়ে এলো।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রথমবারের মত। শুরুতেই বাংলাদেশের কাছে তিন ফরম্যাটের সিরিজে ড্র করতে বাধ্য হয়েছে গুরুসিনহার শিবির। প্রত্যাশার উল্টো পিঠটা তাদের দেখিয়ে ছড়েছে টাইগাররা। তাতেই স্বাগতিকদের যত হতাশা।
মাশরাফি-মুশফিকরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্যগত সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানোর পর গুরুসিনহা বলেছেন, ‘আমাদের তিন সিরিজেই জেতা উচিত ছিল। আমরা প্রতিটি সিরিজই ড্র করেছি, ঘরের মাঠে খেলেছি বলে এটি আমাদের মানায় না। আমাদের সিরিজ জয়টা প্রত্যাশায়ই ছিল।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ২০১৩ সালে প্রথমবার টেস্ট ড্র করে বাংলাদেশ। ওই সিরিজেও অবশ্য হারতেই হয়েছিল সফরকারীদের। পরে ওয়ানডে সিরিজ ১-১ এ ড্র করে ফেরে লাল-সবুজরা। ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে সব ফরম্যাটেই হারে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের দলের কাছে। কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে পাল্টে যাওয়ার শুরু।
বাংলাদেশের এই উন্নতিটাও মানতে হচ্ছে গুরুসিনহাকে, ‘জানতাম বাংলাদেশ জেতার জন্যই লড়বে। ওরা অনেক শক্তিশালী একটা দল, ভালো ক্রিকেট খেলছে। আমরাও তাই খেলি। তবে বসে বসে দলের এমন হতাশাজনক খেলা দেখা সত্যিই খুব কষ্টের। প্রথম টেস্ট হারার পর ওরা আমাদের পাল্টা জবাব দিয়েছে।’
টাইগারদের উন্নতির কাণ্ডারি হিসাবে কোচ হাথুরুসিংহের অবদান দেখছেন গুরুসিনহা, ‘এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে হাথুরুর অধীনে ওরা ভালো করবে। আমি খুবই খুশি যে আমার একজন বন্ধু এবং শ্রীলঙ্কানের হাত ধরে এই সাফল্য এসেছে।’







