ধর্মশালা, হিমাচল প্রদেশ (ভারত): অাগামীকাল বাংলাদেশের ম্যাচের আগে ধর্মশালার অবহাওয়া ভাবনায় ফেললো। এখন ধর্মশালায় নাকি ভীষণ শীত! দিল্লীতে থাকতে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার বন্ধু সাংবাদিক অনমিত্র ফোন করে বলে দিয়েছিলেন, আমি যাতে দিল্লী থেকে বেশি করে গরম কাপড় কিনে নিয়ে যাই। কারণ সিডনিতে গরম রেখে এসেছি। সঙ্গে এনেছি হালকাপাতলা এক জ্যাকেট। এটি নিয়েই দিল্লী থেকে রওয়ানা হয়েছি ট্রেনে। সকালে পাঠানকোট নেমে জ্যাকেট পরে নিয়েছি ঠিক, কিন্তু ভীষণ শীত বলতে যে বার্তা পেয়েছিলাম তেমন কিছু এখনো বোধ করিনি।
এর কারণ হতে পারে পাঠানকোট থেকে ধর্মশালাগামী বাসের অভিজ্ঞতা। পাঠানকোট বাস স্টপেজের লোকজন ভুলিয়ে ভালিয়ে গগলমুখী যে বাসটিতে তুলে দেয় পথে বুঝতে পারি সেটি আসলে লোকাল বাস! এখানে সেখানে যাত্রী তুলছিল নামচ্ছিল। এমন গাদাগাদি বাসে বহুবছর পরে চড়েছি। এমন গাদাগাদি যে বাস, এত মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে সে বাসে কি শীত আর থাকে? গরমে আমার হালকাপাতলা জ্যাকেটও খুলে ফেলতে হয়েছে। পথে এক জায়গায় চা বিরতিতে বাস থামে।
দোকানিকে জিজ্ঞেস করলাম টয়লেট কোথায়। সে একজন লোক দিলো টয়লেট দেখাতে। সে বেচারা যা করলো তা ভারতে যে লাখ লাখ মানুষের টয়লেট নেই তা মনে করিয়ে দিলো। লোকটা খোলা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো!
অনেক দিন অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে থেকে অভ্যাস বদলে যাওয়ায় আমি আর পারলাম না। গগল থেকে বাস পালটে উঠেছি ধর্মশালার বাসে। এবার আর বসার জায়গাই পেলাম না। ধর্মশালা পৌঁছে হোটেল পছন্দ করতে উঁচুনিঁচু অনেক পথ যাকে হাঁটতে হয়েছে তার কি আর শীত অনুভবের সুযোগ আছে?
হোটেলে লাগেজ রেখে আবার বেরিয়ে পড়ি স্টেডিয়াম দেখতে। ইচ্ছা করে বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে স্টেডিয়াম দেখতে গেলাম। হাঁটতে হাঁটতে আমি ঘামচ্ছি। আর লোকজন জার্সি পরা আমাকে দেখিয়ে পরষ্পরের সঙ্গে বলাবলি করছিল কাল বাংলাদেশের খেলা। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারার সারাদিনের অর্জন এইটুকুই।
বিকেলে একটু কেনাকাটার জন্যে বেরিয়ে দেখি লোকজনের পরনে হালকা শীতের কাপড়। কিন্তু আমি হাঁটি বেশি বলেই আমার যেন আর শীত লাগে না। হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তুললাম বরফাচ্ছাদিত হিমালয়ের ছবি। বিকেলের রোদ পড়ে চকচক করছিল হিমালয়ের বরফে ধবল সাদা চূড়া। এই ছবি দেখেও একজনের শীত অনুভব হওয়া উচিত।
আসলে শীত বেশি লাগা কম লাগা এক রকম আপেক্ষিক। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখি মঙ্গলবার ধর্মশালার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বুধবার এই তাপমাত্রা থাকবে সর্বোচ্চ ১৮ সর্বনিম্ন ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
বাংলাদেশ দলের মিডিয়া ব্রিফিং’এ বলা হয়েছে এমন ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাংলাদেশ খেলতে অভ্যস্ত না! কথাটি ভালো লাগেনি। বাংলাদেশ কি ইংল্যান্ড খেলতে যায়নি? আগামীতেও তো খেলতে যাবে।
রাহুল দ্রাবিড়ের কথাটি মনে পড়লো। ভারতের সাবেক এই ক্রিকেট জিনিয়াস ঢাকায় এবার গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশকে বেশি বেশি বিদেশে খেলে জয়ের অভ্যাস বাড়াতে হবে।







