প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলাম লেখক এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম মূসার ৮৬তম জন্মদিন আজ মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)।
এই উপলক্ষে এবিএম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্মারক বক্তৃতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োচজ করা হয়েছে। সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভার।
জাতীয় প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্লাবের আজীবন সদস্য এবিএম মূসা ১৯৩১ সালে তার নানার বাড়ি ফেনী জেলার ধর্মপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। ১৯৫০ সালে দৈনিক ইনসাফ থেকে তার সাংবাদিকতার জীবন শুরু হয়। ঐ বছরে তিনি ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে যোগ দেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি অবজারভারে রিপোর্টার, স্পোর্টস রিপোর্টার, বার্তা সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার পাকিস্তান অবজারভার বন্ধ করে দিলে তিনি দৈনিক সংবাদে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে তিনি আবার অবজারভারে ফিরে আসেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় তিনি বিবিসি, সানডে টাইমস প্রভৃতি পত্রিকার সংবাদদাতা হিসাবে রণাঙ্গন থেকে সংবাদ পাঠাতেন।
স্বাধীনতার পর তিনি বিটিভির মহাব্যবস্থাপক, মর্নিং নিউজের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। ১৯৭৮ সালে এবিএম মূসা ব্যাংককে অবস্থিত জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের (এসকাপ) এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগ দেন। দেশে ফিরে এসে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
২০০৪ সালে তিনি কিছুদিন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবিএম মূসা জাতীয় প্রেসক্লাবের চারবার সভাপতি এবং তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্ব পাকিস্থান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একুশে পদকসহ দেশী বিদেশী নানা পুরষ্কারে ভুষিত হন।
এবিএম মূসা জীবনের শেষদিনগুলোতে একজন দর্শক প্রিয় আলোচক এবং সংবাদ বিশ্লেষক হিসেবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে গেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘মুজিব ভাই’ এবং ‘আমার বেলা যে যায়’। এছাড়াও অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় ‘এবিএম মূসা স্মারকগ্রন্থ’ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।








