এবার জাপান সাগরে ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে নর্থ কোরিয়া। নর্থ কোরিয়ার সিনপো নৌ বন্দরের পূর্ব দিক থেকে এই মিসাইল নিক্ষেপ করা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
সাউথ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এই মিসাইলটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার বা ৪০ মাইলের মতো দুরুত্ব অতিক্রম করেছে।
তবে ধারাবাহিক মিসাইল পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে নর্থ কোরিয়া। দেশটি সবসময় এসব পরীক্ষাকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। তবে এসব মিসাইল-রকেট পরীক্ষার আড়ালে পারমানবিক অস্ত্রের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না- এ নিয়ে শঙ্কিত পশ্চিমারা।
এই মিসাইল পরীক্ষা এমন এক সময়ে করা হলো, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং এক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাত করবেন।
ইতোমধ্যে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের এক সংবাদপত্রে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, ‘চীন আসুক আর না আসুক, যুক্তরাষ্ট্র নর্থ কোরিয়াকে একাই শায়েস্তা করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এক প্রকার বিরক্ত হয়েই বলেছেন, এটি মিডিয়াম রেঞ্জের কেএন-১৫ মিসাইল। আমরা নর্থ কোরিয়া নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আমাদের আর নতুন করে কিছু বলার নেই।
দি নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) বলছে, এই মিসাইল পরীক্ষা নর্থ আমেরিকার জন্য কোনো হুমকি মনে হয়নি।

সাউথ কোরিয়া এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও জাপান অবশ্য এই মিসাইল পরীক্ষাকে ‘উত্তেজক বস্তু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করেছে যে, নর্থ কোরিয়ার এই মিসাইল পরীক্ষা কোরিয়া উপদ্বীপের পাশাপাশি সারা বিশ্বের শান্তি ও সার্বভৌমত্বের উপরে আঘাত। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনবো আবে একে হুমকির নতুন ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যে কোনো ধরনের মিসাইল ও পারমানবিক বোমার পরীক্ষা চালাতে নর্থ কোরিয়ার উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও নর্থ কোরিয়া এগুলোর একেবারেই তোয়াক্কা করে না। জাতিসংঘের এই নিয়ম তারা প্রতিনিয়তই ভেঙে চলেছে।
এর আগে গত মাসেও চীনের সীমান্তের কাছে নর্থ কোরিয়া মিসাইল পরীক্ষা করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলো।








