গত ইউরোয় ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শঙ্কার মেঘ জমিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। ডেনমার্ক তারকার জীবন শঙ্কা ছিল। বুকে কৃত্রিম ডিভাইস বসানোয় শেষ হতে চলেছিল ক্যারিয়ারই। সুখবর হল, সেই ঘটনার নয় মাস পর আবারো তিনি জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।
আগামী ২৬ মার্চ নেদারল্যান্ডস ও ২৯ মার্চ সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ডেনমার্ক। ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের দলে এরিকসেনের নাম রয়েছে। জাতীয় দলে তার ডাক পাওয়া অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকছে।
ডেনমার্কের ফুটবল ফেডারেশন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের দলে ফেরার ঘোষণা দেয় এই বাক্য দিয়ে- ‘জাতীয় দলের ফিরে এসেছেন এরিকসেন।’
ডাচ কোচ ক্যাসপার হুলমান্ড ডেনিশ দলে তাকে রাখা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানের শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। গত শনিবার আমি তাকে বার্নলির বিপক্ষে দেখেছি। মাঠে তিনি সেরা ছিলেন। তিনি এমন এক খেলোয়াড় যিনি বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে দ্রুত চিন্তা করতে পারেন।’
এর আগে গত জানুয়ারির শেষ দিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে চলতি ২০২১-২২ মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন এরিকসেন। আগামী জুনে শেষ হবে চলতি মৌসুম। সেই হিসেবে পাঁচ মাস ব্রেন্টফোর্ডের ডেরায় থাকছেন ড্যানিশ তারকা।
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বুকে ইমপ্লান্টেবল কার্ডিওভারটার ডিফিব্রিলেটর (আইসিডি) ডিভাইস ব্যবহার করছেন এরিকসেন। এটি শরীরে বহন করা অবস্থায় ইতালীয় মেডিকেল কর্তৃপক্ষ সিরি আ’তে খেলা নিষিদ্ধ করে। গত মাসে সমঝোতার ভিত্তিতে ইন্টার মিলান ছাড়তে হয় এরিকসেনকে।
ইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এরিকসেনের তাই মাঠে নামতে বাধা নেই। প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। খেলার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছেন। ইংল্যান্ডে প্রথম পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আইসিডি লাগানো অবস্থায় খেলার নজির গড়তে চলেছেন ড্যানিশ তারকা।
২০১০ সালে ডাচ ক্লাব আয়াক্সে এরিকসেন পেশাদার ফুটবল শুরু। ২০১৩ সালে টটেনহ্যাম হটস্পারে যোগ দেন। ২০২০ সালে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানে যান।








