তাহসান ও মিথিলা দম্পতি মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন ২০০৬ সালের ১৯ আগস্ট। বিয়ের ১৬ দিন পর। তাহসান জানালেন, ওই বছর তারা গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়, লাঙ্কাউইতে। এর পর থেকে প্রতি বছর অগাস্ট মাসের এই সময়টাতে তারা কোথাও না কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন।
মিথিলা জানালেন, এ পর্যন্ত অনেক জায়গায় গিয়েছেন—থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক, পুকেট, পাতায়া, ফিফি। যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাস আর ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ডে। কক্সবাজারেও গিয়েছেন।
শুরুর দিকে তারা বেড়াতে গিয়েছেন দুজন একসঙ্গে। এরপর গিয়েছেন মেয়ে আইরাকে সঙ্গে নিয়ে।
৩ আগস্ট আসতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। কিন্তু এবার এই তারকা দম্পতি একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাবেন না। এরই মধ্যে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তারা যৌথভাবে জানিয়েছেন, ‘বেশ কয়েকমাস ধরে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ নিরসনের চেষ্টার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সামাজিক চাপে একটা সম্পর্ক ধরে রাখার চেয়ে আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়াই মঙ্গলজনক ।’
চমৎকার দম্পতি ছিলেন তারা দুজন। পর্দায় কিংবা অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাদের দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় ছিল না। দুজনের ব্যক্তিত্বই ছিল আলাদা। অনেকের মতো নয়। তবে অনেক দিন থেকে শোনা যাচ্ছিল, তারা আর একসঙ্গে থাকছেন না। তা নিয়ে কেউই কিছু বলতে চাননি।
পাঠক চলুন ফিরে যাওয়া যাক তাহসান আর মিথিলার সেই মধুর দিনগুলোতে। এই তারকা দম্পতি একসঙ্গে ২৬ পর্বের একটি গেম শো উপস্থাপনা করেন। নাম ‘হানিমুন’। একসঙ্গে উপস্থাপনা করেছেন টিভির আরও নানা অনুষ্ঠান। নাটকেও অভিনয় করেছেন। তাহসানের সুরে গান গেয়েছেন মিথিলা।
কেমন ছিল তাহসান আর মিথিলার শুরু দিকের গল্প?
প্রেম হওয়ার পর বিয়ের আগে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বাসার দরজায় ফুল রেখে এসে মিথিলাকে ফোন করতেন তাহসান। তখন তারা দুজনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মিথিলার এক বন্ধু তার ছোট ভাইয়ের জন্য তাহসানের অটোগ্রাফ নিতে যাচ্ছে। তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই তাহসানের বাসায় যান মিথিলা। তখনই তাদের পরিচয়। এরপর মিথিলার কাছে চিঠি লেখেন তাহসান। পরিচয়ের পরদিন তাহসান চিঠি নিয়ে কলাভবনের প্রথম গেটের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এক সময় মিথিলার সামনে পড়ে যান। মিথিলা কথা বললেন।
তাহসান অনুরোধ করেন, ‘চলো হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।’ হাঁটতে হাঁটতে অনেক কথা হল। এক পর্যায়ে তাহসান সাহস করে মিথিলার হাতে গুঁজে দিলেন চিঠি। তাতে লেখা ছিল, ‘Some call it love at first sight, some call it infatution. I just ignore it.’ মনে মনে তাহসানকে পছন্দ করেছিলেন মিথিলাও। তিনি চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন মুঠোফোন বার্তায়। এর প্রথম বাক্য ছিল, ‘অ্যাই, এটা কী লিখেছ?’
মিথিলার জন্য তখন তাহসান গান লিখেছিলেন। তাহসানের সুরে গান গেয়েছিলেন মিথিলা। গানের রেকর্ডিং ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে কখন আট ঘণ্টা সময় পার হয়ে যেত, টেরই পেতেন না।
কিন্তু বিয়ের ১১ বছর পর আজ তাদের দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে গেছে বেঁকে।








