বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এবছরের হজে শুধুমাত্র স্থানীয় সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে বসবাসরত বৈধ প্রবাসীরা ছাড়া অন্য কেউ অংশ মিতে পারবেন না। ফলে এবারও বাংলাদেশি কোনো নাগরিকও হজে যেতে পারবেন না।
সৌদি আরবের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
পবিত্র হজ্জ সম্পাদন করার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সৌদির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে এ বছরের হজ সম্পর্কিত নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী এ বছর হজ করতে পারবেন ৬০ হাজার মুসলিম নর-নারী, তা সীমাবদ্ধ থাকবে শুধু সৌদি আরবের নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে।
আরব নিউজ বলছে, এবারের হজের জন্য অনলাইনে এরই মধ্যে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত ১টায় হজের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। ২৩ জুন রাত ১০টা পর্যন্ত এই নিবন্ধন করা যাবে। তবে আগে আবেদনকারীদের জন্য বা আগে আসলে আগে পাবেন- এমন কোনো অগ্রাধিকার সেখানে থাকবে না।
হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে ১৬,৫৬০.৫০ রিয়াল। অন্যটি ১৪,৩৮১.৯৫ রিয়াল এবং শেষ প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে ১২,১১৩.৯৫ রিয়াল। এই তিনটি প্যাকেজের সঙ্গে যোগ হবে ১৫% ভ্যাট।
হজ ও উমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, হজযাত্রীদেরকে পবিত্র সব স্থানের কাছাকাছি থাকতে হবে। প্রতিটি গাড়িতে সর্বোচ্চ ২০ জন হজযাত্রী বহন করা যাবে। পবিত্র মিনায় অবস্থানকালে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হবে।
অন্যদিকে পবিত্র আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালে দু’বেলা খাবার সরবরাহ করা হবে। এগুলো হলো সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার। মুজদালিফায় দেয়া হবে রাতের খাবার। এর বাইরে অন্য খাবার এবং কোমল পানীয় থাকবে পর্যাপ্ত আকারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে হজ্জ যাত্রীগন এসব খাবার ও পানি গ্রহণ করতে পারবেন।
হজ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, হজের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া মানেই হজের চূড়ান্ত দফা অনুমোদন নয়। এতে আরো বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং রেজ্যুলেশন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে হজের অনুমোদন দেয়া হবে। যদি দেখা যায় আয়োজন বিষয়ক রেজ্যুলেশন ভঙ্গ করা হচ্ছে, তাহলে যেকোনো সময় যেকোনো অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখে মন্ত্রণালয়।
হজের জন্য অনুমোদন পাওয়ার আগে সব আবেদনকারীকে অবশ্যই স্বীকারোক্তি দিতে হবে যে, গত ৫ বছরের মধ্যে তিনি পবিত্র হজ করেননি। তারা কোনো জটিল রোগে ভুগছেন না। এমনকি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত নন। এ ছাড়া ৬ মাসের মধ্যে তারা কোনো জটিল রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি বা কোনো ডায়ালাইসিস চিকিৎসা করানো হয়নি মর্মে স্বীকারোক্তি দিতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এইবারের হজে অংশগ্রহণ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশন এর কাউন্সিলর হজ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম । তবে সৌদি হজ ও ওমরা প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার সোলেমান মাসাত বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান’কে টেলিফোনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বহির্বিশ্বে থেকে হাজিদের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।








