বাংলাদেশে ছবি নির্মাণ কমে গেছে। আগে শতাধিক সিনেমা নির্মাণ হলেও এখন ৫০টিও হয় না। ছবি নির্মাণ কমে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে অনন্ত জলিল বলেছেন: এফডিসিতে নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটির জন্য কেউ ছবি বানাতে চায় না।
আলোচিত নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল আরও বলেন, মানুষ যে কাজটা করে ভালোবেসে করে। একইভাবে ভালোবেসে ছবি বানাতে আসে। কিন্তু এসে যদি দেখে ঝগড়া লেগে আছে তাহলে কেন ছবি বানাবে? এফডিসিতে গেলে একজন আরেকজনের পিছনে লেগে থাকে, দোষারোপ করে; এসবের কারণে কেউ ঝামেলায় জড়াতে চায় না বলে ছবিতে বিনিয়োগ করতে চায় না।
প্রায় ৯ বছর পর মুক্তি পেতে যাচ্ছে অনন্ত জলিলের প্রযোজনায় নির্মিত ছবি ‘দি দ্য ডে’। ঈদে মুক্তি জন্য ইতোমধ্যে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে বাংলাদেশ-ইরানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিটি। মুক্তি উপলক্ষে হল ট্রেলার প্রদর্শনের আয়োজন করেন ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ছবির এ নায়ক।
সেখানে অনন্ত জলিল বলেন, চলচ্চিত্র সর্বোচ্চ গণমাধ্যম। এখানে কেন অন্যরা বিনিয়োগ করবে না! অবশ্যই করবে। কিন্তু বিনিয়োগ করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ুক এটা কেউ চায় না। এফডিসিতে ঝগড়াঝাঁটি বন্ধ করা গেলে অনেক প্রযোজক নতুন করে ছবি বানাতে আগ্রহী হবে।
ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘দিন দ্য ডে’ প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, আমার আশা দিন দ্য ডে মুক্তির মাধ্যমে অনেক বন্ধ হল খুলবে।
অনন্ত জানিয়েছেন, ছবিটির বাজেট প্রায় ১০০ কোটি টাকা (১০ মিলিয়ন ডলার)। তিনি বলেন, ইরান এই বাজেট নির্ধারণ করার পর আমি প্রস্তাব দেই বাংলাদেশে শুটিংয়ে খরচ হবে সেটা আমি দিতে পারবো। যেহেতু আমাদের হল কম তাই বেশি বিনিয়োগ করতে পারবো না। ইরানের ৪০ দিন শুটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলে ৫৭ দিন শুটিং করতে হয়েছে। সেখানে বাজটে বেড়েছে।
দিন দ্য ডে’র মতো ছবি করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন অনন্ত জলিল। তিনি বলেন, টম ক্রুজের ছবিতে যেমন সাউন্ড পাওয়া যায় দিন দ্য ডে ছবিতেও তেমন ফিল পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের শিল্পী হিসেবে ভাগ্যবান মনে করি যে এতো বড় আয়োজনের ছবি করতে পেরেছি। বাকিটা ঈদে মুক্তির সময় পুরো ছবি দেখতে দর্শক বুঝবে।
বাংলাদেশ, তুরস্ক, আফগিস্তান, ইরান এই চার দেশ মিলিয়ে ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমায় উঠে আসবে সেইসব লোমহর্ষক প্রেক্ষাপট। ছবিতে অনন্ত ছাড়াও আছেন তার স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা বর্ষা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম।








