একটা সময়ে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার। কিন্তু এখনকার তরুণ সমাজ দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানে। এদেশের মানুষকে আর কেউ বিকৃত ইতিহাস গেলাতে পারবে না। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাতেও কেউ বাধা দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে মহান বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তাই আওয়ামী লীগ চেষ্টা করে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে। গতকাল রাস্তায় বের হয়ে আমার মিছিলেই আমি ট্র্যাফিক জ্যামে পড়ে যাই। এবার বিজয় দিবসে তরুণদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো। আমি গর্বিত তরুণদের দেখে। আজ মানুষের মনে উদ্দীপনা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
এসময় তিনি সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিজয়ের পতাকা আমাদের সবসময় মহিমান্বিত রাখতে হবে। দেশের মর্যাদা ফিরে এসেছিলো ৭১ সালে, পরে সেটা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে ৭৫ সালে। এখন আবার সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাপি অর্থনৈতিক মন্দাতেও আমরা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ২০০৯-২০১৬ এই সময়ের মধ্যেই তো এত উন্নয়ন হয়েছে দেশের। তাহলে এর আগে এত বছর যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা কি করেছিলো দেশের জন্য?
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের হাতে যারা পতাকা তুলে দিয়েছিলো তাদের কেন জনগণ ভোট দিতে যাবে? তিনি চান এমন কিছু ঘটবে যেন জনগণ নাগরদোলায় করে তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন যদি তাহলে সেটার চর্চা করুন। রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রপতি। জনগণের উপর আমরা কখনো বিশ্বাস বা আস্থা হারাই না।
২০০১ সালের নির্বাচনের কথা টেনে তিনি বলেন, আমি কম্প্রোমাইজ করলে ২০০১ এ ক্ষমতায় আসা কঠিন হতো না। যদি মানুষের কথা না ভেবে দেশের গ্যাস যদি বিদেশে দিয়ে দিতাম তাহলেই হতো। কিন্তু আমার কথা ছিলো আগে গ্যাসের মজুদের পরিমাণ আমাকে জানতে হবে। এবং দেশের জন্য আগামী ৫০ বছরের মজুদ রাখতে হবে তারপর উদ্বৃত্ত থাকলে বাইরে দিবো। দেশের জন্য আমার বাবা জীবন দিয়ে গেছে সেই দেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতি আমরা হতে দিবো না। নির্বাচনের আগে আগে জিমি কার্টার দেশে আসলেন। লতিফুর রহমান তখন তত্বাবধায়ক সরকার। আমি, খালেদা ছিলাম। আমার দেশের সম্পদ ক্ষমতার লোভে বিক্রি করবো তা হবে না, এই বলে আমি চলে আসলাম। জিমি কার্টারের সঙ্গে খালেদা গ্যাস দেওয়ার চুক্তি করলেন। আর তারপরেই তো ক্ষমতায় এলেন।
বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নানান উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।







